যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান মাত্তালা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি চাওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে শ্রীলঙ্কা। একইসঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকেও আসা পৃথক একটি অনুরোধ নাকচ করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কা দুটি আলাদা অনুরোধ পায়—একটি ইরানের পক্ষ থেকে, যেখানে তিনটি নৌযানকে সৌজন্য সফরের অনুমতি চাওয়া হয়; অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, যেখানে জিবুতি সংলগ্ন অবস্থানরত দুটি যুদ্ধবিমান মাত্তালা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি চাওয়া হয়।
শুক্রবার পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে বলেন, ‘আমাদের সামনে দুটি অনুরোধ ছিল, সিদ্ধান্ত ছিল স্পষ্ট।’
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কোনো পক্ষ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে সরকার উভয় অনুরোধই প্রত্যাখ্যান করেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে প্রথম হামলার মাত্র দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র ও গোলাবারুদবোঝাই দুটি সামরিক বিমান শ্রীলঙ্কায় অবতরণ ও পার্ক করার পরিকল্পনা করেছিল।
দিসানায়েকে জোর দিয়ে বলেন, কোনো এক পক্ষকে অনুমতি দিলে শ্রীলঙ্কার নিরপেক্ষ অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতো এবং দেশটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ত।
তিনি আরও সতর্ক করেন, যদি কোনো পক্ষকে অনুমতি দেওয়া হতো, তাহলে মাত্তালা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কলম্বো বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারত। আমরা তা করব না। শ্রীলঙ্কা কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তার নিরপেক্ষ অবস্থান ত্যাগ করবে না বলেও জানান তিনি।
এর আগে, চলতি মাসের শুরুতে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন হামলায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস দেনা ডুবে যায়, এতে অন্তত ৮৪ জন নাবিক নিহত হন।
পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কা ৮৪টি মরদেহ উদ্ধার করে এবং ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে, বাকিরা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
কয়েকদিন পর, শ্রীলঙ্কা আরেকটি ইরানি জাহাজ আইআরআইএস বুশেহরের ২০৮ জন নাবিককে উদ্ধার করে। এর আগে জাহাজটি সহায়তা চেয়ে কলম্বোর সঙ্গে যোগাযোগ করে।
উল্লেখ্য, দুটি জাহাজই ভারতের মিলান পিস ২০২৬ নৌ মহড়ায় অংশ নিয়ে ফেরার পথে ছিল।