ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুক্কা সাগর অঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। এতে একাধিক বাড়িঘর ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের জেরে একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৮ মিনিটের দিকে কম্পনটি অনুভূত হয়। জারি করা হয় সুনামি সতর্কতা।
টারনেট শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে মাটির ৩৫ কিলোমিটার গভীরে ছিল উৎপত্তিস্থল। এখন পর্যন্ত ৫ দশমিক ৫ ও ৫ দশমিক ২ মাত্রার দুটি আফটারশক হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আরও আফটারশক হতে পারে।
অঞ্চলটির বেশ কিছু স্থানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য মিলেছে। ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া দ্বীপটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ, ২ লাখের বেশি মানুষের বসবাস।
প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অফ ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া। টেকটোনিক প্লেটের ঘন ঘন নড়াচড়ার কারণে এখানে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
গত কয়েক মাসেও একাধিক বড় ভূমিকম্প হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। ২০২২ সালে পশ্চিম জাভার সিয়ানজুর শহরে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৬০২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার আগে ২০১৮ সালে সুলাওয়েসিতে ভূমিকম্প ও সুনামিতে ৪,৩০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যা দেশের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত।
এরও আগে, ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে হওয়া শক্তিশালী ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামিতে ২ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। মৃতদের অধিকাংশই ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের বাসিন্দা। সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের স্মৃতি এখনও তাজা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষের কাছে।
সূত্র: এনডিটিভি