দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন
মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমায় বিধ্বস্ত ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্রের বাংকার ও মজুতাগার দ্রুত মেরামত করে পুনরায় সচল করছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে শনিবার (৪ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হামলা চালালেও ইরান উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যান রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও চলতি সপ্তাহে পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে তারা ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে।
চলতি সপ্তাহে এক ব্রিফিংয়ে পেন্টাগন জানায়, যুদ্ধের পাঁচ সপ্তাহে তারা ইরানে ১১ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সন্দেহ প্রকাশ করেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করার যে লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের ছিল, তা অর্জনের কতটা কাছাকাছি তারা পৌঁছাতে পেরেছে।
গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে অবগত মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের কাছে বর্তমানে ঠিক কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যান (লঞ্চার) অবশিষ্ট আছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। তবে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো দেশে হামলা চালানোর মতো পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চার এখনো তেহরানের হাতে রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও সম্প্রতি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতাকে ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনাকে’ যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বারবার মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংখ্যা কমে আসার কথা বলে আসছেন।
গত সোমবার হেগসেথ বলেন, ‘হ্যাঁ, তারা এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বে, কিন্তু আমরা সেগুলো ভূপাতিত করব। লক্ষণীয় বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সংখ্যা ছিল সর্বনিম্ন। তারা ভূগর্ভস্থ অবস্থানে চলে যাবে, কিন্তু আমরা তাদের খুঁজে বের করব।’
এটি একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সাফল্যকে প্রতিফলিত করে।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, ইরান তাদের লঞ্চারগুলোকে হামলা থেকে বাঁচাতে বাংকার ও গুহায় লুকিয়ে রাখছে।
ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা যতটা সম্ভব ধরে রাখতে চায়, যাতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তারা চাপ অব্যাহত রাখতে পারে অথবা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ওই অঞ্চলে নিজেদের হুমকি বজায় রাখতে পারে।