ইরান যুদ্ধ যদি আগামীকাল শেষও হয়, তাহলেও বিশ্বজুড়ে ৩ কোটির বেশি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের কবলে পড়বে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কর্মকর্তা আলেকজান্ডার ডি ক্রু বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সতর্কবার্তা দেন।
আলেকজান্ডা ডি ক্রু বলেন, ‘যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে মোট জিডিপির শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক আট শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাচ্ছে। বিশ্বের স্বল্পোন্নত বা ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য এর অর্থ কী? এর অর্থ হলো, প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের অন্ধকারে হারিয়ে যাবে।’
জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতি বছর ১০ হাজার কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসত, যা সরাসরি এক পরিবার থেকে অন্য পরিবারের কাছে পৌঁছাত। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অর্থের প্রবাহ অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’
‘যুদ্ধ আগামীকাল থেমে গেলেও এর বিরূপ প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে। ইরান যুদ্ধ ৩ কোটিরও বেশি মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেবে,’ যোগ করেন তিনি।
এই কর্মকর্তার মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান খাদ্য অনিরাপত্তাই এর প্রধান কারণ।
তেল ছাড়াও বিপুল পরিমাণ সার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়, যা যুদ্ধ শুরুর পর ইরান বন্ধ করে রেখেছে।
আলেকজান্ডার ডি ক্রু সতর্ক করে বলেন, ‘আগামী কয়েক মাসের মধ্যে খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করবে। এখনই বীজ বপনের সময়। এখন যদি সারের অভাবে ফলন ব্যাহত হয়, তাহলে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরের দিকে উৎপাদন অনেক কমে যাবে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে খাদ্য অনিরাপত্তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে।’