মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘সন্তুষ্ট নন’ বলে জানা গেছে।
গেল সপ্তাহান্তে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি চুক্তির প্রস্তাব দেয়। এতে বলা হয়, ওয়াশিংটন যদি ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ ও বন্দরগুলোর ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ করে, তাহলে তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে।
একই সঙ্গে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের জন্য রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে ওমান ও পাকিস্তানে আলোচনাকারীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই প্রস্তাব পেশ করেন। মূলত চলমান অচলাবস্থা নিরসন এবং পুনরায় আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে এই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার জাতীয় নিরাপত্তা দল ইরানের এই প্রস্তাব নিয়ে সন্দিহান। ট্রাম্প কেন এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন তা স্পষ্ট না হলেও, ধারণা করা হচ্ছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টিই এর মূল কারণ।
ট্রাম্প বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। এমনকি তেহরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম না হয়, তা নিশ্চিত করাও ছিল তার যুদ্ধে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বাদ দিয়ে কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।
রুবিও বলেন, ‘আমরা তাদের এভাবে পার পেয়ে যেতে দিতে পারি না। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যেকোনো চুক্তি বা সমঝোতা যেন অবশ্যই তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের পথে ধাবিত হওয়াকে চূড়ান্তভাবে প্রতিহত করে।’
আলোচনার ভবিষ্যৎ
এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস ইরানের এই প্রস্তাব নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এই বিষয়ে অবগত কর্মকর্তারা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ এবং তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
ট্রাম্প এর আগে ইরানকে জানিয়েছিলেন, তারা ফোনে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মিডিয়ার মাধ্যমে কোনো আলোচনা করবে না। আমাদের অবস্থানের সীমা নিয়ে আমরা স্পষ্ট এবং প্রেসিডেন্ট কেবল এমন চুক্তিই করবেন, যা আমেরিকার জনগণ এবং বিশ্বের জন্য কল্যাণকর হবে।’
ইরানের ৩ শর্ত
তেহরানের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে যদি—
১. ইরান এবং এর বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
২. মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ করা হয়।
৩. ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের জন্য রাখা হয়।
ট্রাম্পের অসন্তোষ
ইরানের এই নতুন প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মূলত কার হাতে দর কষাকষির নিয়ন্ত্রণ বেশি এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় কোন দেশ বেশি সক্ষম, তা নিয়েই এই বিতর্ক।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের নেতৃত্ব তাদের প্রতিনিধিদের পরমাণু ইস্যুতে ছাড় দেওয়ার অনুমতি দেয়নি, যা শান্তি চুক্তির প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এমনকি ট্রাম্প নিজেও তেহরানের আলোচনার সক্ষমতা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।
গত সপ্তাহান্তে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছিলেন, “ইরান বুঝতেই পারছে না, তাদের নেতা কে! তারা আসলে জানেই না! যুদ্ধক্ষেত্রে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়া ‘কট্টরপন্থী’ এবং নামমাত্র ‘উদারপন্থীদের' (যারা ক্রমশ সম্মান পাচ্ছে) মধ্যে এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সত্যিই পাগলামি!”
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি