সিএনএনের প্রতিবেদন
সংযুক্ত আরব আমিরাত জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কৃত্রিমভাবে তেলের দাম বাড়িয়ে রাখার সক্ষমতা এক বড় ধাক্কার মুখে পড়ল।
এই সিদ্ধান্ত মার্কিন তেল উৎপাদনকারীদের মধ্যেও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলের সাড়াদানের সক্ষমতাকে জটিল করে তুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে জ্বালানিতে একপ্রকার স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশটি যে পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করে, উৎপাদন করে তার চেয়েও বেশি। তারপরও প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এখনও তাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
এর কারণ যুক্তরাষ্ট্র যে হালকা ও উন্নতমানের অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করে, তা পেট্রোল তৈরির জন্য উপযোগী হলেও ভারী জ্বালানি এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য তৈরির জন্য খুব একটা উপযুক্ত নয়।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে এখনও কিছু অপরিশোধিত তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদে ওপেকের ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া সাধারণ ভোক্তাদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ। আগামী ১ মে ওপেক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর তারা বাজারের বড় ও স্বাধীন প্রতিযোগী হিসেবে আবির্ভূত হবে, যারা কোনো জোটগত বিধিনিষেধ ছাড়াই তেল উৎপাদন করতে সক্ষম।
মার্কিন উৎপাদকদের জন্য এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনো অস্পষ্ট। বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর যদি নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়, তাহলে মার্কিন জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর মুনাফায় টান পড়তে পারে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি ছিল (এমনকি ওপেকের উৎপাদনসীমার মধ্যেও)। তাই আমিরাতের এই বাড়তি উৎপাদনের বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদী চাহিদা থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
ভবিষ্যতে তেলের চাহিদা যদি আগের মতো কমে যায়, তাহলে মার্কিন উৎপাদকদের হয়তো তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিতে হতে পারে।
ওপেক থেকে আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রমাণ করে, ইরান যুদ্ধ বিশ্ব বাণিজ্যের ধরনে স্থায়ী পরিবর্তন আনছে এবং নতুন নতুন সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করছে। পরিবর্তনের এই ঢেউ হয়তো কেবল আমিরাতেই থেমে থাকবে না।