ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফ ও যুক্তরাষ্ট্রের পলিটিকোর মালিকপক্ষ ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করা সাংবাদিকদের অবশ্যই ইসরায়েলকে সমর্থন করতে হবে; অন্যথায় তাদের পদত্যাগ করতে হবে। এই ঘোষণার পর প্রতিষ্ঠান দুটির সম্পাদকীয় স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক প্রতিবেদনে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, পলিটিকোর মালিকানা প্রতিষ্ঠান এক্সেল স্প্রিঙ্গারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ম্যাথিয়াস ডফনার কর্মীদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েলকে সমর্থন করা প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করার অপরিহার্য শর্ত।
গত সোমবার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই মন্তব্য করেন ডফনার। তার এই মন্তব্যের পর পলিটিকোর অভ্যন্তরে সংবাদকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
২০২১ সালে পলিটিকো অধিগ্রহণ করে এক্সেল স্প্রিঙ্গার।
পলিটিকোর দায়িত্ব নিতে যাওয়া প্রধান সম্পাদক জোনাথন গ্রিনবার্জারের কাছে সাংবাদিকদের পাঠানো একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ওই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। চিঠিতে সাংবাদিকেরা মিডিয়া মোগল ডফনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তিনি সংবাদমাধ্যমটিকে তার ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের’ জন্য ব্যবহার করছেন।
জুয়িশ ইনসাইডারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে সাংবাদিকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ডফনারের সাম্প্রতিক কলামগুলো ‘নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যম’ হিসেবে পলিটিকোর সুনাম নষ্ট করার ঝুঁকি তৈরি করছে।
চলতি মাসের শুরুতে ডেইলি টেলিগ্রাফ কেনার অনুমতি পাওয়ার পর এক্সেল স্প্রিঙ্গারের এই বিশাল মিডিয়া সাম্রাজ্য এখন আরও বেশি বিতর্কের মুখে পড়েছে।
দ্য টেলিগ্রাফ ও পলিটিকোর সাংবাদিকেরা আশঙ্কা করছেন, শীর্ষ পর্যায় থেকে চাপিয়ে দেওয়া এই মতাদর্শিক দিকনির্দেশনা তাদের সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় নীতি আমূল বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে ইসরায়েল-সংক্রান্ত খবরগুলোর ক্ষেত্রে একপাক্ষিক অবস্থান তৈরির তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনে কমপক্ষে ৭২ হাজার ৫৯৯ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৪১১ জনের বেশি মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় ইসরায়েল বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার মামলার মুখোমুখি।