ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর দাবিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান থেকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবটি এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত এক ভয়ংকর রূপ নিয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, পুতিনের এই প্রস্তাব সফল হলে ইরান থেকে তাদের ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে, যা তেহরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতাকে সরাসরি স্থবির করে দেবে। এই পদক্ষেপটি কেবল পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নয়, বরং রাশিয়ার মধ্যস্থতায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের এক চূড়ান্ত পর্যায়ে অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা ও বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার তথ্যমতে, ইরানের হাতে বর্তমানে তিন হাজার কেজির বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এর একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়েছে, যেখানে সাধারণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য মাত্র ৩-৫ শতাংশ সমৃদ্ধি প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৬০ শতাংশ থেকে পারমাণবিক বোমার জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধিতে পৌঁছাতে এখন ইরানের জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। যদি রাজনৈতিকভাবে তেহরান সিদ্ধান্ত নেয়, তবে কয়েক সপ্তাহ বা বড়জোর এক মাসের মধ্যেই তারা প্রথম বোমাটি তৈরির প্রয়োজনীয় রসদ জোগাড় করতে সক্ষম হবে।
এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রস্তাবটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে কারণ তেহরানের ওপর মস্কোর বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, লোহিত সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর মোতায়েন ও সম্প্রতি ইরানের শীর্ষ নেতাদের ওপর কথিত হামলার ফলে তৈরি হওয়া অস্থিরতার মাঝে পুতিন এই কার্ডটি খেলছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার আসন্ন প্রশাসনের সময়ে এই ইস্যুটিকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখাতে চান। তবে ইরান কি তাদের দীর্ঘদিনের অর্জিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এত সহজে ছেড়ে দেবে? বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বর্তমানে ইরানের অভ্যন্তরে এক হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু ও শীর্ষ নেতৃত্বের শূন্যতা তাদের হয়তো এই কঠিন শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করতে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে ইরান থেকে ইউরেনিয়াম সরানোর এই প্রক্রিয়াটি সফলও হতে পারে। তবে প্রক্রিয়াটি সফল নাকি ব্যর্থ হবে সময়ই তা বলে দেবে।