মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে পারস্য উপসাগরের আকাশে নিখোঁজ হয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান। বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার মডেলের এই বিমান জরুরি সংকেত পাঠানোর পরপরই রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মঙ্গলবার (৫ মে) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার ২৪-এর বরাত দিয়ে এই নিখোঁজ সংবাদটি প্রচার করেছে।
মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোতে আকাশে ওড়া অবস্থায় জ্বালানি সরবরাহ করার কারণে এ ধরনের বিমানকে ‘উড়ন্ত পেট্রোল পাম্প’-ও বলা হয়।
এদিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নকারী এই মার্কিন বিমানের জরুরি সংকেত কাতারের আকাশে থাকা অবস্থায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য বিমানটি কাজ করছিল।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা থেকে দেখা যায়, কেসি-১৩৫ বিমানটি অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়ার আগে আকাশের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বেশ কিছুক্ষণ বৃত্তাকারে ঘুরছিল।
এতে ঠিক কী কারণে জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। শত্রুপক্ষ এর পেছনে দায়ী কি না, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই ঘটনার সঙ্গে নিজেদের কোনো সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে ইরান এখন পর্যন্ত কোনো বিবৃতি দেয়নি। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীও বিমানটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
গত মার্চ মাসে পশ্চিম ইরাকে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি কেসি-১৩৫ বিমান হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মোর্চা ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক সেই হামলার দায় স্বীকার করেছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি জানিয়েছিল, নিজেদের দেশের সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমা রক্ষার স্বার্থে তারা বিমানটি ভূপাতিত করে।