যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে গেল ফেব্রুয়ারি ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর সম্ভাব্য মার্কিন হামলা থেকে রক্ষা করতে ইরানের সামরিক বিমানগুলোকে নিজেদের অন্যতম প্রধান বিমানঘাঁটিতে রাখার অনুমতি দিয়েছিল পাকিস্তান।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে মঙ্গলবার (১২ মে) এ তথ্য জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। এই খবর প্রকাশের পর যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদের ভূমিকা নিয়ে ওয়াশিংটনে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ইরান তাদের বেশ কিছু বিমান পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির কাছে অবস্থিত নুর খান বিমানঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়। এর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকারী একটি বিশেষ বিমানও ছিল।
এছাড়া সংঘাতের সময় ইরানের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেহরান অন্তত একটি বেসামরিক বিমান প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানে পাঠিয়েছিল বলেও জানা গেছে।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান প্রকাশ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়ার সময় সম্ভাব্য মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা থেকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বিমানবাহিনীর সম্পদ রক্ষা করতে ইরান এই উদ্যোগ নেয়, যাতে সাড়া দেয় ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানে পাঠানো বিমানগুলোর মধ্যে ইরানের বিমান বাহিনীর একটি আরসি-১৩০ ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এটি লকহিড কোম্পানির তৈরি সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমানের উন্নত সংস্করণ, যা মূলত গোয়েন্দা নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হয়।
এই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘যদি এই প্রতিবেদন সত্য হয়, তাহলে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।’
এদিকে পাকিস্তানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নুর খান বিমানঘাঁটি সংক্রান্ত এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘এই দাবি মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ ঘাঁটিটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং শহরের একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত। সেখানে বিশাল এক বিমান বহর লুকিয়ে রাখলে সাধারণ মানুষের চোখে পড়বে না, তা হয় না।’
এর আগে একই মাসে রাশিয়া, চীনসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সচল রাখতে ইরানকে পাকিস্তান তাদের ছয়টি স্থলপথ ব্যবহারের অনুমতি দেয় বলে খবর প্রকাশ হয়। সেসময়ও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।