ভিসা আবেদন করতে গেলে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজ জমা দিতে হয়। এসব নথি সহজ ও দ্রুত যাচাই করতে এখন থেকে এসব কাগজপত্রে বাধ্যতামূলকভাবে কিউআর কোড সংযুক্ত করতে হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ বিষয়ে একটি সার্কুলারে এ তথ্য জানানো যায়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশের ভিসা আবেদনের সময় বাংলাদেশি নাগরিকদের কোনো দূতাবাস বা ভিসা সেন্টারগুলোতে আবেদনকারীদের বিভিন্ন ব্যাংক নথি জমা দিতে হয়। তবে এসব নথি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দূতাবাস ও ভিসা সেন্টারগুলো নানা সমস্যার মুখে পড়ছে। এতে ভিসা প্রক্রিয়ায় সময় ও প্রশাসনিক ব্যয়ও বাড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট নথিগুলো ডিজিটালভাবে দ্রুত যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা আবেদনের জন্য দেওয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেটে অনলাইনে যাচাই করতে অবশ্যই কিউআর কোড থাকতে হবে। এই কিউআর কোড স্ক্যান করলে গ্রাহকের ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখা যাবে। কিউআর কোডের মধ্যে, গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট নম্বর, হিসাবধারীর নাম, স্টেটমেন্টের শুরুর ও শেষের স্থিতি এবং স্টেটমেন্ট তৈরির তারিখ যাতে দেখা যায়, সেই ব্যবস্থা ব্যাংকগুলোকে নিতে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, এসব তথ্য অন্তত ছয় মাস সংরক্ষণ করতে হবে ও যাচাইযোগ্য অবস্থায় রাখতে হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, নির্দেশনা কার্যকর করতে ব্যাংকগুলোকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার বিষয়েও বিদ্যমান বিধি মেনে চলতে হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।