মিরপুরে ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায় লিখল বাংলাদেশ। নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিং আর তাসকিন-তাইজুলের দাপটে পাকিস্তানকে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারী পাকিস্তান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে পাকিস্তানের দীর্ঘ আধিপত্যের গল্পটা এবার আরও ফিকে হয়ে গেল। প্রথম জয়ের জন্য যেখানে ২০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল টাইগারদের, সেখানে এখন টানা সাফল্যের ছাপ স্পষ্ট। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর এবার মিরপুরেও হার মানল শান মাসুদের দল।
ম্যাচের শুরুতেই আঘাত হানে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ইমাম-উল হককে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। কটবিহাইন্ড হওয়ার আগে ৫ বলে ২ রান করেন পাকিস্তানি ওপেনার। অন্য ওপেনার আজান আওয়াইস ৩৩ বলে করেন ১৫ রান। দলনেতা শান মাসুমও ব্যর্থ, তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান।
৬৮ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। এরপর আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা মিলে ৫১ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে সেই জুটিও বেশিক্ষণ টেকেনি। তাইজুল ইসলামের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ১১৩ বলে ১১টি চারে ৬৬ রান করে ফেরেন ফজল। পরের ওভারেই তাসকিনের শিকার হন সালমান আগা, তিনি করেন ৩৯ বলে ২৬ রান।
৫ উইকেট হারানোর পর মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিল কিছুটা আশা জাগাচ্ছিলেন। কিন্তু সেখানেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নাহিদ রানা। নিজের করা টানা দুই ওভারে এই দুই ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান তরুণ এই পেসার। রিজওয়ান ও শাকিল দুজনই করেন ১৫ রান। পরে হাসান আলিকেও ১ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম।
এর আগে চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল বাংলাদেশ। ১৭৯ রানের লিড নিয়ে পঞ্চম দিন ব্যাট করতে নামে টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৭ রান করেন। মুশফিকুর রহিম করেন ২২ রান। এছাড়া লিটন দাস ১১, মেহেদি হাসান মিরাজ ২৪, তাইজুল ইসলাম ৩ ও তাসকিন আহমেদ ১১ রান করেন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন। আগের দিন মাহমুদুল হাসান জয় ৫, সাদমান ইসলাম ১০ ও মুমিনুল হক ৫৬ রান করেছিলেন।
বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান। এর আগে প্রথম ইনিংসে শান্তর সেঞ্চুরি আর মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের ফিফটিতে ৪১৩ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান করে ৩৮৬ রান।