শিলাবৃষ্টি, ভারি বর্ষণ ও বজ্রপাতে ভারতের উত্তর প্রদেশে অন্তত ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৭২ জন। গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে রাজ্যের ২৬টি জেলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
উত্তর প্রদেশের ত্রাণ কমিশনার ঋষিকেশ ভাস্কর যশোদের কার্যালয় জানায়, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে প্রয়াগরাজে। সেখানে মারা গেছেন ২১ জন। এ ছাড়া মির্জাপুরে ১৯ জন, সন্ত রবিদাসনগরে ১৬ এবং ফতেহপুরে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ১৭০টি গবাদিপশুর মৃত্যু এবং ২২৭টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ত্রাণ কমিশনার জানান, ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল অ্যান্ড কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতি নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে উত্তর প্রদেশের বেরেলি জেলার ভামোরা এলাকায়। জেলার বাবিয়ানা গ্রামের নানহে আনসারি নামের এক বাসিন্দা বাতাসের তোড়ে একটি টিনের চালের সঙ্গে প্রায় ৫০ ফুট ওপরে উঠে যান। পরে তিনি একটি ভুট্টাখেতে আছড়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। আনসারির শূন্যে উড়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঝড়, বৃষ্টি ও বজ্রপাতে ক্ষতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে কর্মকর্তাদের দ্রুত ত্রাণতৎপরতা শুরু, বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের জারি করা তীব্র আবহাওয়ার সতর্কতার পরিপ্রেক্ষিতে, ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুম থেকে সচেত পোর্টালের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে ৩৪ কোটি ৬৪ লক্ষ লাল ও কমলা সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। ত্রাণ কমিশনার জানিয়েছেন, কন্ট্রোল রুমকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দেওয়া ত্রাণ সহায়তার উপর নজর রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ত্রাণ দুর্যোগ হেল্পলাইন নম্বর ১০৭০-এ আসা কলগুলির দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস