ভারতে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম। শুক্রবার (১৫ মে) থেকে দেশটিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩ রুপি করে বাড়ানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতার প্রভাবে দেশটিতে এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটল বলে মনে করা হচ্ছে।
দেশটিতে অনেকদিন থেকেই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা ছিল। আর সেই জল্পনাই এবার সত্যি হলো। সারা দেশেই ৩ রুপি করে দাম বাড়ানো হলো এই দুই জ্বালানি তেলের।
এই দাম বৃদ্ধির ফলে কলকাতায় পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে ১০৮.৭৪ রুপি। ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৫.১৩ রুপি।
ভারতের অন্যান্য শহরের মধ্যে দিল্লিতে পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৭.৭৭ রুপি, ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯০.৬৭ রুপি। এর পাশাপাশি দিল্লিতে সিএনজির দামও লিটার প্রতি ২ রুপি বাড়ানো হয়েছে। ৮৫ রুপি থেকে সেই দাম বেড়ে হয়েছে ৮৭ রুপি। মুম্বাইতে পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে ১০৬.৬৮ রুপি, ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৩.১৪ রুপি।
চেন্নাইতে পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে ১০৩.৬৭ রুপি, ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৫.২৫ রুপি।
দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তেল কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু বলা না হলেও মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে বিশ্ববাজারে যেভাবে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। যার ফলে তেল কিনতে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলোকে। কিন্তু তেলের দাম না বাড়ায় বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছিল তেল সংস্থাগুলোর। এমন এক প্রেক্ষিতে দাম বাড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের।
সম্প্রতি পেট্রোল ও ডিজেল ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এমনকি তিনি দেশবাসীকে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের পরামর্শও দিয়েছেন। তার পরামর্শ মেনে একাধিক বেসরকারি সংস্থা এই নীতি চালু করেছে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নিজের গাড়িবহরের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভারতের একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সরকার জ্বালানি তেল সাশ্রয়ে নিজেদের গাড়ি বহরের সংখ্যা কাটছাঁট করেছে।
এমন এক প্রেক্ষিতে অনুমান করা গিয়েছিল আগামী দিনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে চলেছে। অবশেষে সেই শঙ্কাই সত্যি হল।
এদিকে, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এর ফলে বাস-ট্যাক্সিসহ পরিবহন খরচও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি জ্বালানি তেলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত খাবারদাবার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি