কিউবার ওপর আরোপিত তেল অবরোধের প্রভাব কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ১০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রস্তাব পুনরায় দেওয়ার পর হাভানায় কিউবান গোয়েন্দা প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফ।
শুক্রবার (১৫ মে) কিউবার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই বৈঠক মূলত সংলাপের পথ সুগম করার একটি প্রচেষ্টা। বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে, হাভানা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়।
অন্যদিকে সিআইএর এক কর্মকর্তা বিবিসির মার্কিন সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে কিউবাকে অবশ্যই ‘মৌলিক কিছু পরিবর্তন’ আনতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে কিউবার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাসপাতালগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং স্কুল ও সরকারি অফিসগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল বলেছেন, ত্রাণের প্রস্তাব দেওয়ার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অবরোধ তুলে নিত, তাহলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি সম্ভব হতো।
সিবিএস নিউজকে দেওয়া সিআইএ কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর নাতি রাউল রদ্রিগেজ কাস্ত্রো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাজারো আলভারেজ কাসাস ও কিউবার গোয়েন্দা প্রধান উপস্থিত ছিলেন।
মার্কিন প্রতিনিধি দলটি মূলত ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বার্তা ব্যক্তিগতভাবে পৌঁছে দিতে’ এই বৈঠক করেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বৈঠকে র্যাটক্লিফ এবং কিউবার কর্মকর্তারা গোয়েন্দা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কিউবা আর পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে পারবে না।’
চলতি বছরের শুরুর দিকে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বসার কথা স্বীকার করলেও তেল অবরোধ অব্যাহত থাকায় আলোচনা একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়ে।
কিউবা আগে তাদের শোধনাগারগুলোর জন্য ভেনেজুয়েলা ও মেক্সিকোর তেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে কিউবাকে জ্বালানি পাঠালে শুল্ক আরোপের ট্রাম্পের হুমকির মুখে দেশ দুটি জ্বালানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ করে দেয়।
মার্কিন অবরোধের কারণে কিউবায় ডিজেল ও জ্বালানি তেল সম্পূর্ণ ফুরিয়ে গেছে। গত বুধবার কিউবার জ্বালানিমন্ত্রী ভিসেন্ট ডি লা ও বলেছিলেন, ‘আমাদের কাছে এখন বিন্দুমাত্র জ্বালানি তেল বা ডিজেল অবশিষ্ট নেই। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড বর্তমানে সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে। আমাদের কোনো জরুরি মজুতও নেই।’
মন্ত্রী জানান, গত সপ্তাহ থেকে চলতি সপ্তাহে রাজধানী হাভানায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। অনেক এলাকায় দিনে ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
প্রায় এক কোটি মানুষের এই ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রে মার্কিন জ্বালানি অবরোধ এখন চতুর্থ মাসে গড়িয়েছে, যা জনজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে।
গত সপ্তাহে কিউবার ওপর ট্রাম্পের জ্বালানি অবরোধকে ‘অবৈধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানায়, এটি কিউবার জনগণের উন্নয়নের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি তাদের খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।