পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে নোঙর করে রাখা একটি জাহাজ জব্দ করে ইরানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওমানের কাছে আক্রমণের শিকার হয়ে আরেকটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে বলে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, এই ঘটনাগুলোর পেছনে কারা ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি। তবে এমন সময়ে ঘটনাগুলো ঘটল, যখন ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই জলপথের ওপর তার দেশের নিয়ন্ত্রণের দাবি পুনরায় ব্যক্ত করেছেন এবং অন্য একজন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজ জব্দ করার অধিকার তাদের রয়েছে।
বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধের ফলে এই প্রণালিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়া দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে জ্বালানির দাম বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান এই অস্থিতিশীলতার মধ্যে বেইজিংয়ে চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে, এই বিষয়ে বৈঠকে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ জব্দ ও হামলা অব্যাহত
ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার জব্দ করা জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের ৩৮ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে নোঙর করা ছিল।
ফুজাইরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি টার্মিনাল, যা ইরান যুদ্ধের সময় বারবার হামলার শিকার হয়। অননুমোদিত ব্যক্তিরা সেখান থেকে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয় বলে খবর পাওয়া গেছে।
ব্রিটিশ মেরিটাইম সেন্টার বৃহস্পতিবার জব্দ করা জাহাজের নাম প্রকাশ করেনি এবং জানিয়েছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করছে।
তবে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাহাজটি ইরানের জলসীমার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ওমান উপকূলে হামলার শিকার হয়ে ভারতের পতাকাবাহী একটি জাহাজ ডুবে গেছে। সোমালিয়া থেকে আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরে যাওয়ার পথে পণ্যবাহী জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।
তবে এই হামলার পেছনে কারা ছিল, তা তারা উল্লেখ করেনি।
ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মুকেশ মাঙ্গাল জানান, ভারতের পতাকাবাহী হাজি আলী নামের জাহাজটির ওপর বুধবার এই হামলা হয়।
তিনি জানান, জাহাজে থাকা ১৪ জন ভারতীয় ক্রু সদস্যের সবাইকে ওমানের কোস্টগার্ড উদ্ধার করেছে এবং তারা নিরাপদ আছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর অব্যাহত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
তবে এই হামলার জন্য নির্দিষ্ট কাউকে দায়ী করেনি মন্ত্রণালয়।