ইটালির রাজধানী রোমে পৌঁছাতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদির সঙ্গে একটি সেলফি পোস্ট করে তাকে বন্ধু বলে উল্লেখ করেন মেলোনি। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছবি ভাইরাল হয়ে যায় নেটদুনিয়ায়। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
কারণ গত কয়েক বছরে মোদি ও মেলোনির ব্যক্তিগত রসায়ন এবং প্রকাশ্য বন্ধুত্ব দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।
রোমে পৌঁছে মোদি নিজেও সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, এই সফরের মূল লক্ষ্য হবে ভারত-ইটালি সহযোগিতা আরও জোরদার করা। বিশেষ করে ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর বা আইএমইসি প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।
এই সফরকে কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য পুনর্বিন্যাসের প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইটালি নিজেদের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশ বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে চায় এবং আগামী কয়েক বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার রোমের ঐতিহাসিক ভিলা ডোরিয়া পামফিলিতে মোদি ও মেলোনির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কৃষি, সমুদ্র পরিবহণ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং উচ্চশিক্ষা নিয়ে একাধিক সমঝোতা হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। একইসঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিও আলোচনায় আসতে পারে।
মোদি-মেলোনির সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মেলোডি শব্দটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দু’জনের নাম মিলিয়ে এই শব্দ ব্যবহার শুরু হয় কয়েক বছর আগে। এবার সেই আলোচনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন মোদি নিজেই।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তিনি মেলোনিকে উপহার হিসেবে ভারতের জনপ্রিয় মেলোডি টফি দিয়েছেন। মেলোনিও হাসিমুখে সেই উপহার গ্রহণ করেন এবং ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জি-৭ সম্মেলনের পর এটাই মোদির প্রথম ইটালি সফর। এর আগে দুবাই জলবায়ু সম্মেলনেও দু’নেতার একটি নিজস্বী আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়েছিল। মেলোনি বরাবরই মোদিকে ‘প্রিয় বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে এসেছেন। এমনকি ২০২৪ সালের ভারতীয় নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে তিনিই প্রথম মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে ভারতের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করতে ইটালি এখন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠছে। বিশেষ করে চীনের বিকল্প উৎপাদন ও বাণিজ্যিক অংশীদার খুঁজছে ইউরোপীয় দেশগুলো। সেই বাস্তবতায় ভারতকে ঘিরে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ভারতও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী।
সব মিলিয়ে, মোদি-মেলোনির এই নতুন সাক্ষাৎ শুধু বন্ধুত্বের প্রদর্শন নয়; বরং এর ভেতরে রয়েছে বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, রয়টার্স, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইকোনমিক টাইমস