আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের রাজনৈতিক ঝুঁকি মাথায় নিয়েও ২০২০ সালের নির্বাচনে ‘কারচুপি’ হয়েছে, নিজের পুরোনো সেই দাবিই বারবার আউড়ে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ছয় মাসে কমপক্ষে ১০৭ বার এর পুনরাবৃত্তি করেছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ছয় মাসে ট্রাম্প জনসভা, সাক্ষাৎকার ও অনলাইন পোস্টে প্রায় প্রতিদিন এই বিষয়টি নিয়ে মেতে থেকেছেন এবং প্রায়শই তার এ সংক্রান্ত ক্ষোভ ঝড়ের গতিতে আসে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত এপ্রিলের এক শনিবারে যখন ইরানের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছিল, তখন ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জো বাইডেনের কাছে হেরে যাওয়া ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে একদিনেই সাতবার কারচুপির অভিযোগ তোলেন।
এমনকি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে অন্তত ছয়টি বৈঠক, পেশাদার ক্রীড়া দলগুলোর দুটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং হোয়াইট হাউসে বড়দিন ও ইহুদিদের উৎসব হানুক্কা উদযাপনের মধ্যেও তিনি এই অভিযোগ করতে ভোলেননি।
গত জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে লিখিত বক্তব্যের বাইরে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যা করেছে, তার জন্য খুব শিগগিরই তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।’
গেল সপ্তাহে আইনপ্রণেতাদের জন্য হোয়াইট হাউসের এক পিকনিকেও তিনি ২০২০ সালের নির্বাচন কারচুপির অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও একই কথা বলেন।
যে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে ২০২০ সালে ২৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ২০ শতাংশেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে নিশ্চিতভাবে ডেমোক্র্যাটদের কাছে হেরেছিলেন ট্রাম্প, সেই রাজ্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘খোদ যিশু খ্রিষ্ট যদি নিচে নেমে এসে ভোট গণনা করতেন, তাহলেও আমি ক্যালিফোর্নিয়ায় জিততাম। কিন্তু পুরো ভোটটাই ছিল কারচুপির।’
তবে হোয়াইট হাউসের দুজন কর্মকর্তা এবং এই বিষয়ে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ব্যক্তির মতে, ২০২০ সালের নির্বাচনের ওপর ট্রাম্পের এই অবিরাম মনোযোগ আসলে সুদূরপ্রসারী কৌশল।
এর উদ্দেশ্য, নতুন নির্বাচনী বিধিনিষেধ আরোপের যৌক্তিকতা তৈরি করা, দলের আনুগত্য জোরদার করা এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সমর্থকদের চাঙ্গা করা; যা নির্ধারণ করবে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে।
একাধিক নির্বাচন বিশেষজ্ঞের মতে, ২০২০ সালের নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ বলে ট্রাম্প আসলে রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য পরাজয়কে চ্যালেঞ্জ করার এবং ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় ফিরে এলে তাদের খাটো করার পথ তৈরি করছেন।
অরাজনৈতিক সংস্থা প্রোটেক্ট ডেমোক্রেসির নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আলেকজান্দ্রা চ্যান্ডলার বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) পেছনের দিকে তাকাচ্ছেন না; এটি মূলত মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে করা হচ্ছে। তিনি এর মাধ্যমে অপপ্রচারের একটি ধোঁয়াশা তৈরির চেষ্টা করছেন, যাতে পরবর্তীতে তিনি যদি কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো হস্তক্ষেপ করেন, তাহলে জনগণ যাতে খুব একটা অবাক না হয়।’