যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রায় তিন দশক আগে সংঘটিত একটি শিশুহত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঠিক আগে তার উচ্চারিত শেষ কথাগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
৫৩ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু রিচার্ড লুকহার্টকে ফ্লোরিডা স্টেট প্রিজনে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে তিনি তার প্রেমিকার মাত্র পাঁচ মাস বয়সী কন্যাশিশু গ্যাব্রিয়েল হ্যানশকে হত্যা করেছিলেন। পরে শিশুটির মরদেহ একটি জলাশয়ে ফেলে দেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। ১৯৯৭ সালে তাকে হত্যা ও শিশু নির্যাতনের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে যখন মৃত্যুকক্ষের পর্দা খোলা হয়, তখন লুকহার্ট ইতোমধ্যে শয্যায় বাঁধা অবস্থায় ছিলেন। একজন ধর্মযাজক তার পাশে প্রার্থনা করছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষ শেষ বক্তব্য দিতে চাইলে তিনি মাথা তুলে উপস্থিত ব্যক্তিদের দিকে তাকিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, ‘আমি দুঃখিত।’ এরপর তিনি বাইবেলের একটি বহুল পরিচিত আয়াত পাঠ করেন, যেখানে যিশু খ্রিস্টের মুখে বলা হয়েছে, ‘পিতা, এদের ক্ষমা করো, কারণ এরা জানে না এরা কী করছে।’
মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনার দিন শিশুটির মা বাইরে গেলে লুকহার্ট শিশুটির দেখাশোনা করছিলেন। পরে তিনি দাবি করেন, শিশুটি দুর্ঘটনাবশত আহত হয়েছে। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে, শিশুটির গুরুতর আঘাতের জন্য তিনিই দায়ী ছিলেন। ঘটনার পর তিনি শিশুটির মরদেহ নিয়ে পালিয়ে যান এবং একটি পুকুরে ফেলে দেন। কয়েক দিন পর পুলিশ তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করে।
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি বিভিন্ন আদালতে আপিল করেন। তার আইনজীবীরা স্বাস্থ্যগত জটিলতা ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে ফ্লোরিডার আদালত ও যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত সব আবেদন খারিজ করে দেন।
এই মৃত্যুদণ্ড ২০২৬ সালে ফ্লোরিডায় অষ্টম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সক্রিয় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা অব্যাহত রাখলেও ভুক্তভোগীদের পরিবারের অনেকেই এটিকে ন্যায়বিচারের পরিণতি হিসেবে দেখছেন।
মৃত্যুদণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক নতুন নয়। সমর্থকদের মতে, ভয়াবহ অপরাধের ক্ষেত্রে এটি ন্যায়বিচারের সর্বোচ্চ রূপ। অন্যদিকে বিরোধীরা মনে করেন, রাষ্ট্রের হাতে জীবন কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকা উচিত নয় এবং বিচার ব্যবস্থার ভুলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে প্রতিটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাই দেশটিতে নতুন করে নৈতিক ও আইনি বিতর্কের জন্ম দেয়।
সূত্র: এপি নিউজ, এবিসি নিউজ, ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস