১০০ দিন আগে শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরান সফর করছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জন্য একটি ‘বিশেষ চিঠি’ নিয়ে গেছেন; যা লিখেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির।
আল জাজিরা জানিয়েছে, শনিবার (৬ জুন) রাতে নাকভি ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছান এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দর মোমেনির সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাকভি জানান, বৈঠকে তারা অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ‘আঞ্চলিক সর্বশেষ পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে’ আলোচনা করেন।
পরদিন রোববার পাকিস্তানের জিও নিউজ জানায়, এদিন দুপুরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন নাকভি। বৈঠকের একপর্যায়ে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের সেই ‘বিশেষ চিঠি’ ইরানি মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
নাকভি তেহরানে পৌঁছানোর আগে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, পাকিস্তানের এই মন্ত্রী দেশটির সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি বহন করছেন।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনার মধ্যে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রোববার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তাদের বাহিনী ইরানের দুটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে, যারা ‘হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক যান চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করেছিল।’
এর আগে শুক্রবার হরমুজ প্রণালির দিকে উৎক্ষেপণ করা ইরানের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার কয়েক ঘণ্টা পর কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ধেয়ে যাওয়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করে মার্কিন বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ‘পরবর্তী সামুদ্রিক হামলা প্রতিরোধ করতে’ ইরানের গারুক ও কেশম দ্বীপে উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্টেশনগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর এসব হামলায় ক্ষোভ জানিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো; যারা শুরু থেকে এই যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসছে। কারণ যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি তাদের ওপর পড়ছে।
বাহরাইন সর্বশেষ এই হামলাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।