ইরানের অনুমতি নিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে গড়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ মার্কিন ডলার ফি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সংসদের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য।
ইরানি সংসদের বাজেট ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মহসেন জানগানেহ রোববার (৭ জুন) আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ফি আদায়ের বিষয়টি জানান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান দাবি করে আসছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা যানগুলোর ওপর নজরদারি করার অধিকার তাদের রয়েছে। এই জলপথের অপর প্রান্তে অবস্থিত ওমানেরও একই অধিকার রয়েছে বলে মনে করে তেহরান।
সিএনএন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি নামের একটি ব্যবস্থাপনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে ইরান।
সংস্থাটি গত সপ্তাহে জানায়, মে মাসে তাদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩০০টিরও বেশি বিদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতির জন্য তাদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়েছে, যার সিংহভাগই ছিল তেলবাহী ট্যাংকার।
রোববার ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রক্রিয়ার আওতায় সংগৃহীত রাজস্ব সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ফি নগদের পরিবর্তে পণ্য ও সেবার মাধ্যমেও আদায় করা হয়েছে।
অবশ্য ইরানি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই অর্থ কোনো শুল্ক নয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই গত মাসে বলেছিলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের পরিবেশ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি জাহাজগুলোকে নৌ-চলাচল সংক্রান্ত পরিষেবা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, এই পরিষেবাগুলোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু ফি আদায় করা প্রয়োজন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কৌশলগত জলপথে ইরানের এমন নিয়ন্ত্রণ মানতে নারাজ।
ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের আগে ওই অঞ্চলে নৌ-চলাচলের যে স্বাধীনতা ছিল, তা পুনরায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জোর দেন তিনি।