হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবারও তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানে নেমে এসেছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৭২ দশমিক ৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি ২৭ ফেব্রুয়ারির দামেরও নিচে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরুর আগের দিনের চেয়েও কম।
আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেল প্রতি ৬৯ দশমিক ৪১ ডলারে নেমেছে।
বিশ্ব শেয়ারবাজারে সামগ্রিক চাঙ্গা ভাবের মধ্যেই তেলের বাজারে এই পতন দেখল বিশ্ব। মার্কিন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রন শক্তিশালী মুনাফা ও আশাব্যঞ্জক পূর্বাভাস দেওয়ার পর এশিয়ার শেয়ারবাজারেও উত্থান দেখা গেছে।
চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার ঘোষণা দেন, যা যুদ্ধের অবসানের পথ তৈরি করে। এরপর তেলের দাম ১৬ শতাংশেরও বেশি কমে।
এর আগে ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে এপ্রিলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ইরানের উপকূলঘেঁষা এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।
সাম্প্রতিক জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, তেলবাহী জাহাজগুলো আবারও হরমুজ প্রণালি ব্যবহার শুরু করেছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে।
এদিকে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনাও তেলের দামের ওপর চাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে।
সুইস বেসরকারি ব্যাংক লমবার্ড ওদিয়েরের বিশ্লেষক ফিলিপ্পো পালোত্তি বলেন, ‘এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা আমাদের সেই মূল্যায়নকে সমর্থন করছে, যেখানে আমরা সংঘাত ধীরে ধীরে প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখেছিলাম।’