যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী গতকাল মঙ্গলবার ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপের পাশাপাশি তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
এর অংশ হিসেবে ইরানের অন্যতম আলোচিত তেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোসেইন শামখানির বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিএনএন আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শামখানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়।
ওয়াশিংটনের দাবি, এই ধনকুবের ইরানের তথাকথিত শ্যাডো ফ্লিট বা ছায়া নৌবহর নেটওয়ার্কের অন্যতম প্রধান পরিচালনাকারী। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মস্কো ও তেহরান তেল বিক্রি করে শত শত কোটি ডলার আয় করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, শামখানি পরিচালিত নেটওয়ার্কটি ইরান সরকারের সবচেয়ে লাভজনক আয়ের উৎসগুলোর একটি। তার বাবা ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
শামখানির বিরুদ্ধে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোলের (ওএফএসি) তথ্যমতে, তেহরানে জন্ম নেওয়া শামখানি ‘হুগো হায়েক’ ছদ্মনামেও পরিচিত ছিলেন। একসময় তার ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র ডমিনিকার নাগরিকত্ব ছিল।
ডমিনিকার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অর্থের বিনিময়ে পলাতক ব্যক্তিদের পাসপোর্ট বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দেশটি গত বছর শামখানির নাগরিকত্ব বাতিল করে।
মোহাম্মদ হোসেইন শামখানি হলেন প্রয়াত আলী শামখানির ছেলে। আলী শামখানি ছিলেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান এবং নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শীর্ষ উপদেষ্টা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আলী শামখানি ও আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দুজনই নিহত হন।
ওএফএসির দাবি, বাবার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে মোহাম্মদ হোসেইন শামখানি ইরান ও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার পরও তেল পরিবহনের জন্য একটি ট্যাংকার বহর গড়ে তোলেন এবং সেটি পরিচালনা করেন।
পরে তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য জাহাজ পরিবহন ও পণ্য বাণিজ্য খাতেও বিস্তৃত হয়।