জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত সান লেই বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বড় ধরনের হামলা’ শুরুর সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যকে ‘আরও একবার বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে’ ঠেলে দিয়েছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গতকাল মঙ্গলবার রাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের এক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
ওয়াল্টজ অভিযোগ করেছিলেন, ইরান ও ইয়েমেনে পণ্য সরবরাহ বন্ধে চীন যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
চীনা দূত এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
সান লেই বলেন, ‘চীন এ ধরনের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করা বন্ধ করা।’
এর আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ওয়াল্টজ অভিযোগ করেন, ইরান ও ইয়েমেনের হুতিদের কাছে বেসামরিক খাতের বাইরে ব্যবহার উপযোগী (সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য) পণ্যের প্রবাহ ঠেকাতে চীন পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখছে না।
গতকাল রাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে ওয়াল্টজ বলেন, ‘ইরানের মতো রাষ্ট্র এবং কিছু ক্ষেত্রে চীনের বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান হুতিদের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী জাতিসংঘের প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে, যার জন্য তাদের তেমন কোনো জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয়নি।’
এরপর চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে ওয়াল্টজ বলেন, তিনি মূলত এমন কিছু ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ (বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে লাগে এমন) পণ্য এবং ‘স্যাটেলাইট চিত্র’ সরবরাহের কথা বলছেন, যা ‘ইরান ও হুতিদের দেওয়া হয়েছে; যেগুলোর বেসামরিক ব্যবহার তো আছেই, পাশাপাশি সেগুলো আমাদের অংশীদার, বেসামরিক বিমান এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হুমকির মুখে ফেলতেও ব্যবহার করা হয়েছে’।