আমরণ অনশনের ১৮তম দিনে পা রাখা শিক্ষাবিদ ও জলবায়ুকর্মী সোনম ওয়াংচুক যদি এভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যান, তাহলে তিনি আর দুই দিনের বেশি বেঁচে থাকতে পারবেন না। দিল্লি হাইকোর্টে করা এক আর্জিতে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে জরুরি হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্জিতে বলা হয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের বিষয়ে ‘রাষ্ট্র একেবারেই উদাসীন এবং অনুভূতিহীন’।
আর্জিতে ভারতের এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত এই অধিকারকর্মীকে ‘জোর করে খাওয়ানোর’ নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
গত মাসের তৃতীয় সপ্তাহে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকে। এই কর্মসূচিতে একপর্যায়ে সংহতি জানিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেন লাদাখের অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার তারা আর্জির শুনানি করবেন।
হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা চলমান কর্মবিরতির কারণে আজ বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের কেউ উপস্থিত না থাকায় প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার একটি বেঞ্চ আর্জির শুনানি আগামীকাল ধার্য করেন।
আইনজীবী রাকেশ কুমার সাইনির করা আর্জিতে বলা হয়, ‘৫৯ বছর বয়সী সোনম ওয়াংচুক এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে আট কেজি ওজন হারিয়েছেন।
‘সহজ সমাধান হলো, তাকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং তরল খাবারের মাধ্যমে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান জোরপূর্বক খাওয়ানো।’
আর্জিতে বলা হয়, ‘সোনম ওয়াংচুক যদি এভাবে প্রাণ হারান, তাহলে তা দেশ ও বিশ্বের জন্য চরম লজ্জার বিষয় হবে। রাষ্ট্র নিজের চোখের সামনে দেশের একজন নাগরিককে স্বেচ্ছায় না খেয়ে মারা যেতে দেবে, আদালত তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না।’
আবেদনকারী দাবি করেন, ভারত সরকার এই অধিকারকর্মীর সঙ্গে ‘দাগি অপরাধী, সন্ত্রাসী বা দেশদ্রোহীর’ মতো আচরণ করছে। তার জীবন নিয়ে কোনো উদ্বেগ দেখাচ্ছে না।