ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত এটি তার সঙ্গে নেতানিয়াহুর অষ্টম বৈঠক। ফেব্রুয়ারির পর এবারই তাদের প্রথম সাক্ষাৎ হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির ওই বৈঠকের পর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা শুরু করেছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে রওনা হওয়ার আগে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘এমন জটিল সময়ে দৃঢ়তা ও প্রজ্ঞা দুটোই প্রয়োজন। আমরা আলোচ্য সব বিষয় নিয়ে কথা বলব, তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে ইরান।
‘অবশ্যই আমাদের লক্ষ্য নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে আমাদের চারপাশে শান্তির পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা।’
চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে দুই সপ্তাহ ধরে যে বোমা হামলা চালিয়েছে, তাতে অংশ নেয়নি ইসরায়েল। ওই হামলার জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায়।
তিন দিন আগে ওই সামরিক অভিযান স্থগিত করেন ট্রাম্প। এর জবাবে ইরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই বিরতি বহাল থাকলে তারাও হামলা স্থগিত রাখবে।
তবে ইসরায়েল সতর্ক করে দিয়েছে, তেহরানের পক্ষ থেকে নতুন কোনো হামলা হলে তার জোরালো জবাব দেওয়া হবে।
নেতানিয়াহু সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, তার ও ট্রাম্পের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে দুই দেশের স্বার্থে কিছুটা ভিন্নতা দেখা দেওয়ায় সেই মতভেদ প্রকাশ্যে আসে।
গত জুনে দুজনের মধ্যে হওয়া এক উত্তপ্ত ফোনালাপ সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়।
পরে ট্রাম্প নিজেই প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেন, ওই আলাপচারিতায় তিনি নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বলেছিলেন। ঘটনাটি দুই নেতার সম্পর্কের টানাপোড়েনকে স্পষ্ট করে তোলে।