শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে করা এফআইআরগুলোর তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক আদেশে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তারা মনে করছে, সব মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের দেওয়া আশ্বাসের সঙ্গে সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশ সাংঘর্ষিক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোাস্টে বলেছেন, ‘ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন সংক্রান্ত একগুচ্ছ জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশটি সারা দেশের জন্য সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।
‘বিশেষ করে ৪ নম্বর নির্দেশনাটি, যা বিভিন্ন রাজ্য সরকারকে বিদ্যমান এফআইআরগুলোর তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। এটি অত্যন্ত গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।’
এসময় সিজেপির দাবি বাস্তবায়নে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হলে নতুন করে আন্দোলন শুরুরও হুঁশিয়ারি দেন সৌরভ।
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মঘাতী ২০ জন পরীক্ষার্থীর পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সারা দেশে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর গত শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ৩৬ দিনের অবস্থান ধর্মঘট প্রত্যাহার করে সিজেপি। তার আগে আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
সৌরভ অভিযোগ করেন, সরকারের দেওয়া আশ্বাস সত্ত্বেও শীর্ষ আদালতের এই আদেশের বিরোধিতা করেননি সরকারি আইনজীবীরা।
সিজেপির এই মুখপাত্র এক্সে বলেন, ‘আমাদের আশঙ্কা, প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের এই আদেশকে কাজে লাগিয়ে ভারত সরকার এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর বহাল রাখতে এবং তাদের চরম হয়রানি করতে একে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
‘প্রথম দিন থেকেই আমাদের প্রধান উদ্বেগ ছিল এটাই। শান্তিপূর্ণ ভিন্নমতকে টার্গেট করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আদালতকে ব্যবহার করা হতে পারে।’
সৌরভ বলেন, ‘আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশে এমন কিছু নেই, যা ভারত সরকার বা সংশ্লিষ্ট বিজেপি, এনডিএ শাসিত রাজ্য সরকারগুলোকে এফআইআর প্রত্যাহার বা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দেয়। বিহার ও আসাম সরকার যেমনটি করেছে।
‘এসব মামলা প্রত্যাহার বা এগিয়ে না নেওয়ার ক্ষমতা এখনো নির্বাহী বিভাগের হাতেই রয়েছে।’
সিজেপি মুখপাত্র বলেন, ‘আদালত কখনোই বলেনি, সরকারগুলোকে অবশ্যই এফআইআর চালিয়ে যেতে হবে। তেমনটা ভাবা হবে আদেশের ভুল ব্যাখ্যা।
‘২৫ জুলাই সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা থেকে পিছিয়ে আসার অজুহাত হিসেবে আদালতের এই আদেশকে দাঁড় করানো কোনোভাবেই উচিত হবে না।’