জেন জির মন জিততে চাইলে ‘ক্যামেরার নয়, হৃদয়ের অ্যাঙ্গেল’ বদলাতে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে, এমন মন্তব্য করে দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের দমন-পীড়নের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা।
তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে নিজের বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলের ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলের চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরং নিজের হৃদয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। তবেই তিনি নতুন প্রজন্মের মন জয় করতে পারবেন।
গতকাল মঙ্গলবার ভারতের লোকসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬-এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রিয়াঙ্কা এ সমালোচনা করেন বলে জানিয়েছে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
এসময় গত ২০ জুলাই দিল্লিতে সংসদ ভবন অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পদযাত্রার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও তরুণদের ওপর পুলিশের অভিযানে গুরুতর আহত এক তরুণীর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে দিল্লির একটি হাসপাতালে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন প্রিয়াঙ্কা।
তিনি বলেন, ওই মা ভিআইপি সফরে বিরক্তি প্রকাশ করে তাকে জানিয়েছিলেন, মেয়ের ন্যায়বিচারের জন্য তিনি একাই লড়াই করবেন।
কংগ্রেসের এই নেত্রী বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই, একটি মেয়ের ওপর এত নৃশংসতা চালানোর কী প্রয়োজন ছিল? শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ছররা গুলি ও একে-৪৭ ব্যবহারের প্রয়োজন কেন হলো? এই নির্দেশ কে দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? আজ দেশবাসী এর উত্তর জানতে চায়।’
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সংসদ চত্বরে বিজেপির সংসদ সদস্যদের তাকে ফুলের মালা পরিয়ে সংবর্ধনা দেওয়ারও কড়া সমালোচনা করেন প্রিয়াঙ্কা।
তার মতে, তাদের আচরণ দেখে মনে হয়েছে যেন কোনো ‘সুপারস্টার’ এসেছেন।
এর আগে কংগ্রেসের আরেক সংসদ সদস্য গৌরব গোগইও বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, তাদের সংসদ সদস্যরা ধর্মেন্দ্র প্রধানকে এমনভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন, যেন তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয় করে এসেছেন।
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সিজেপির নেতৃত্বে তরুণদের টানা আন্দোলনের মুখে গত শনিবার পদত্যাগে বাধ্য হন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সিজেপির বাকি দাবিগুলোও সেদিন মেনে নেয় মোদি সরকার।
এক সপ্তাহের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে গতকাল সংশোধিত প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী বিলটি আলোচনা ও পাসের জন্য লোকসভায় উত্থাপন করা হয়।