বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের করা অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রচলিত আইন ও নির্দিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী ‘খতিয়ে দেখছে’ বলে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসংক্রান্ত ওই প্রতিবেদন এদিন সংসদে উপস্থাপন করা হয়।
কমিটি জানায়, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার তার প্রত্যর্পণ চেয়ে যে অনুরোধ করেছে, তা তারা আমলে নিয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি পর্যালোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারকে নিয়মিত অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছে।
‘হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম দেওয়া হয়নি’
কমিটি উল্লেখ করে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দেশটির ‘সভ্যতাগত মূল্যবোধ এবং চরম সংকট বা অস্তিত্বগত হুমকির মুখে পড়া ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার মানবিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার স্পষ্ট করেছে, শেখ হাসিনাকে ভারতে কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা সেখান থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত সবসময় এই নীতি অনুসরণ করে এসেছে যে, তার ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
কমিটি সরকারকে একই সঙ্গে নীতিনিষ্ঠ ও মানবিক অবস্থান বজায় রাখার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতি যেন যথাযথ সংবেদনশীলতার সঙ্গে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোকাবিলা করা হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছে।
গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন।
শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অবনতি ঘটে।
পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করে।