ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দাবি করে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে খবর আসার কয়েক দিনের মাথায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরানি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ।
ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে এতে খামেনিকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া আজ রোববার জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা এবং তিনি কোথায় আছেন, তা নিয়ে তৈরি হওয়া গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনা নিরসনের প্রয়াস হিসেবে ইরানের সরকারঘনিষ্ঠ মেহের নিউজ গতকাল শনিবার প্রথম ভিডিওটি প্রকাশ করে।
এর আগের দিন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করে, খামেনির শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটজনক’। এরপর তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি ওই পদে স্থলাভিষিক্ত হন।
সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর মোজতবাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে গুরুতর আহত হন। জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভর করছেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত ধোঁয়াশা আরও বাড়িয়ে এক রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, এই মুহূর্তে খামেনির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা ‘অত্যন্ত কঠিন’।
গত জুলাই মাসে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে সৌদি সংবাদমাধ্যম আল হাদাথ দাবি করেছিল, খামেনি ‘ইরানে নেই’।
পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, সামরিক অভিযানের পর ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে এবং খামেনি ‘৯০ শতাংশই নিষ্ক্রিয়’ ও অক্ষম হয়ে পড়েছেন।
তবে ইরানের কর্মকর্তারা তার আহত হওয়ার বিষয়টি ‘তেমন গুরুতর নয়’ বলে দাবি করে আসছেন। তারা বলেছেন, তার আঘাত ছিল উপরিভাগে।
তাদের দাবি, খামেনি এখনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের তদারকি করছেন এবং নির্দেশনা দিচ্ছেন।
তবে তাকে সম্প্রচারমাধ্যমে সরাসরি বা জনসম্মুখে দেখা না যাওয়ায় ইরান ও এর বাইরে তার স্বাস্থ্য এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত থাকে।
এমন পরিস্থিতিতে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সর্বোচ্চ নেতার ভিডিও প্রকাশ করল ইরান।