ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ভোরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর দেশটির উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপে। ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও স্থাপনা ধসে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ভবন ধসে পড়া এবং আতঙ্কিত মানুষের ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে।
পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের সিক্কা শহরের বাসিন্দা ইয়োহান্না এমবু এএফপিকে বলেন, তাদের শহরে অনেক বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। ভূমিকম্পের সময় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। তিনি নিজের চোখে বন্দর এলাকার একটি ভবন ভেঙে পড়তে দেখেছেন।
প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ঘুমের মধ্যেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রাথমিক হিসাবে ভূমিকম্পে ৫৪টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাংগারাই প্রদেশকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এদিকে, ভোরের ভূমিকম্পের পর স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের পেমাতাংসিয়ান্তার শহরের কাছে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৬৩ কিলোমিটার গভীরে বলে জানিয়েছে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরিবিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি স্থানীয়রা অনুভব করলেও এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
তবে প্রথম ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনায় উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা থাকার আশঙ্কায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।