পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান একদিন আবার ভারতের অংশ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের যোগগুরু রামদেব। এ জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবার ভারতের রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রামদেব। তিনি বলেন, ভারতে হিন্দুধর্ম, ইসলাম বা খ্রিষ্টধর্ম—কোনোটিই হুমকির মুখে নেই। তবে ভারতের সম্মান ও মর্যাদা হুমকির মুখে রয়েছে।
পাকিস্তানে হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রামদেব বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুরা ‘নির্যাতন ও অবিচারের’ শিকার হয়েছেন। পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর যে নির্যাতন ও অবিচার হয়েছে, তা মানবসভ্যতার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিষ্ঠুরতাগুলোর মধ্যে পড়ে।’
রামদেব বলেন, ‘এমন দিনও আসবে, যখন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের সঙ্গে একীভূত হবে। শুধু একটু ধৈর্য ধরুন।’
ধর্মান্তর এবং এ বিষয়ে ছত্তিশগড়ে প্রণীত আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হিন্দু, খ্রিষ্টান বা মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগকে রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ হিসেবে দেখা যায়।’ তিনি বলেন, ‘দেশে যে ধর্মীয় পরিবর্তনগুলো ঘটেছে, অন্তত ভবিষ্যতে যেন কেউ নির্যাতনের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। হিন্দুধর্ম, ইসলাম বা খ্রিষ্টধর্ম কোনোটি হুমকির মুখে নেই। হুমকির মুখে রয়েছে ভারতের সম্মান ও মর্যাদা।’
ভারতকে বিশ্বের সেরা গণতন্ত্র এবং দেশটির নাগরিকদের বিশ্বের সেরা নাগরিক হিসেবে দেখতে চান বলেও জানান রামদেব। তিনি বলেন, ‘ভারতের অর্থনীতি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হোক, রুপির মূল্য অন্তত মার্কিন ডলার ও ব্রিটিশ পাউন্ডের সমান হোক এবং ভারতীয় পাসপোর্ট এত শক্তিশালী হোক, যাতে বিশ্বের কোথাও ভারতীয়দের ভিসার প্রয়োজন না হয়।’
যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে ভারতের সমান মর্যাদা থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সনাতন ধর্ম প্রসঙ্গে রামদেব বলেন, ইসলাম বা খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করার মতো কোনো ঘাটতি সনাতন ধর্মে নেই। তিনি দাবি করেন, অতীতে কিছু মুসলিম বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সনাতনী হিন্দুদের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করেছেন। এর মধ্যে ‘তলোয়ার, প্রলোভন, অলৌকিকতার দাবি এবং ভুল ধারণা প্রচার’ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইভাবে খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরের সময়ও তারা নীরব ছিলেন বলে জানান।
তবে সনাতন ধর্মের মধ্যে কোনো মৌলিক ত্রুটি নেই বলে দাবি করেন রামদেব। তার ভাষ্য, সনাতন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে কিছু বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তি এসব বৈষম্য ও সামাজিক বিভাজন চর্চা করেন।
রামদেব বলেন, সনাতনী হওয়ার অর্থ হলো ভগবান রামের মর্যাদা, ভগবান কৃষ্ণের যোগ ও কর্ম এবং ভগবান শিবের পবিত্রতা ও সত্যবাদিতাকে ধারণ করা। এসব মূল্যবোধ অনুসরণ করা হলে ধর্মান্তরের প্রশ্নই থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যবস্থা যাতে সঠিকভাবে এবং কোনো ষড়যন্ত্র বা অনিয়ম ছাড়াই পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের বড় দায়িত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রামদেব। তিনি বলেন, ধর্মীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যেন কোনো ষড়যন্ত্র না হয় এবং ধর্মীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ধর্ম, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে কোনো অনিয়ম না থাকে, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসব ব্যবস্থা আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারত গড়ে তোলার আহ্বান জানান রামদেব।