নেপালের ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যায় রসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি জেলার জনবসতিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুধবারের (২৬ আগস্ট) এই বন্যায় এখন পর্যন্ত ২২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক ও ৩২ জন নিরাপত্তাকর্মীসহ মোট ৩৮৪ জন রয়েছেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার নদী-তীরবর্তী এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নুওয়াকোটের সহকারী প্রধান জেলা কর্মকর্তা কৃষ্ণ প্রসাদ হুমাগাইন জানান, পুরো জনবসতি বন্যায় ধ্বংস হয়ে গেছে। নদীর তীর, সেতু ও বাজারগুলোও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কংক্রিটের অনেক সেতু পানির স্রোতে ভেসে গেছে। ইতিহাসে এর আগে এত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কখনো দেখা যায়নি।
বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এদিকে ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার লাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৬০ জনেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। প্রকল্পটির উদ্যোক্তা বিজয় মোহন ভট্টরাই জানান, বুধবার সকাল থেকে প্রকল্পের ভেতরে থাকা ২৫ জন প্রকৌশলী, চালক ও রান্নাঘরের কর্মী এবং একটি টানেলের মধ্যে থাকা আরও ৩৫ শ্রমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছিল এবং দুই দিনের মধ্যে এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল।
অন্যদিকে, রসুয়ার তিমুরে অবস্থিত কাস্টমস অফিসের ১৫ কর্মীরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দপ্তরটির প্রধান রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা।
নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বন্যায় আটকা পড়া ৮৮ জনকে তারা উদ্ধার করেছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজরাম বাসনেট বলেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জনকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আহত আরও কয়েকজন ত্রিশুলি ক্যাম্পে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনাবাহিনীর চারটি হেলিকপ্টারসহ মোট ১২টি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত হেলিকপ্টারও রয়েছে।
তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উদ্ধারকারী ফ্লাইট। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র জানিয়েছে, রসুয়ায় বন্যাকবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত বিমানবন্দর থেকে বেসরকারি ২৯টি ও সামরিক ৬টি হেলিকপ্টার ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে আহতদের নিয়ে ২৩টি বেসরকারি ও দুটি সামরিক হেলিকপ্টার কাঠমান্ডুতে ফিরে এসেছে।
এ ছাড়া রসুয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়া তিনটি হেলিকপ্টারও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দুর্গত এলাকায় আরও হেলিকপ্টার পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
কাঠমান্ডু বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য পরিচালিত ফ্লাইটগুলোর সমন্বয় করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং এবং সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী খড়গ রাজ পাওদেল।