জন্ম থেকেই ডান হাতের কনুইয়ের নিচের অংশ নেই। কিন্তু এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থামাতে পারেনি মো. হুজাইফা মোল্লাকে। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায়ে বাম হাত দিয়েই লিখে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন তিনি। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষাও দিয়েছেন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে। ফলাফল নিয়েও আশাবাদী হুজাইফা। তার বিশ্বাস, এবারও কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করবেন।
ছোটবেলা থেকেই হুজাইফার স্বপ্ন—ইঞ্জিনিয়ার হবেন। সেই স্বপ্ন পূরণে এইচএসসি শেষ করে এখন ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা তার। কিন্তু মেধা ও স্বপ্নের পথে এবার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থসংকট। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিংয়ে ভর্তি হতে চান তিনি। অথচ পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় সেই সুযোগও হচ্ছে না।
হুজাইফা জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ভানুকান্দা গ্রামের মো. মঞ্জুর রহমানের চার সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে। দুই ভাই ও দুই বোনের সংসারে বাবা মঞ্জুর রহমানই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি ভানুকান্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন। সামান্য আয় দিয়ে সংসারের নিত্যদিনের খরচ চালাতেই তাকে হিমশিম খেতে হয়।
সরেজমিনে গিয়ে ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৈতৃক সম্পত্তি বলতে দেড় শতক বসতভিটা ছাড়া আর কোনো জমিজমা নেই তাদের। সংসারের খরচের পাশাপাশি ছেলের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রায় আট বছর ধরে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন হুজাইফা। তবে সেই সামান্য অর্থ দিয়ে উচ্চশিক্ষার মতো বড় ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়।
এর আগে আক্কেলপুরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল আলম হুজাইফার কলেজে ভর্তির সময় সহযোগিতা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জায়গায় আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করলেও এখনো কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পরিবার। ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সুবিধা থেকেও বঞ্চিত থাকার অভিযোগ করেছেন হুজাইফা।
হুজাইফার বাবা মো. মঞ্জুর রহমান বলেন, ‘ছেলের পড়াশোনার প্রতি অনেক আগ্রহ। নিজের কষ্ট হলেও এতদিন যতটুকু পেরেছি, পড়াশোনা চালিয়েছি। কিন্তু এখন ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরীক্ষার কোচিং ও পড়াশোনার খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।’
হুজাইফা বলেন, ‘আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। পড়াশোনায় কোনো সমস্যা নেই। শুধু অর্থের অভাবে কোচিংয়ে ভর্তি হতে পারছি না। সহযোগিতা পেলে ভর্তি পরীক্ষার ভালো প্রস্তুতি নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।’
জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘হুজাইফার বিষয়টি জানি। প্রতিবন্ধী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে জেলা পরিষদের। হুজাইফার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’
জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া বলেন, ‘হুজাইফার বিষয়ে এখনো আমার কাছে কোনো আবেদন আসেনি। আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’