নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ হাজারো মানুষকে উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। নেপালের তিনটি জেলায় গতকাল বুধবার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো ভোতে কোশি নদীর বন্যা কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই এসেছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ঘটনার সঠিক ধারাবাহিকতা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোতে কোশির শাখানদী লেন্দের প্রবাহ হিমবাহ ধসে আটকে যাওয়ার পর আকস্মিকভাবে পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। প্রথমে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের রসুওয়াগাধির কাছে তিমুরে এলাকায় আঘাত হানে সেই পানির স্রোত।
কয়েক মিনিটের মধ্যে বন্যার পানি ভাটির দিকে ধেয়ে যায়। এতে নেপালের রসুওয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বসতি ভেসে যায়।
নুওয়াকোট থেকে এনডিটিভি জানিয়েছে, বেশির ভাগ এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেলেও বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও জনসাধারণের বিভিন্ন স্থাপনা কয়েক মিটার পুরু পলি ও কাদায় ঢেকে গেছে। এতে নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
এলাকার ভিডিওতে দেখা গেছে, বাড়িগুলোর অন্তত একটি তলা পলি ও কাদার নিচে চাপা পড়েছে।
নুওয়াকোটের ত্রিশূলি বাজারের এক স্থানীয় ব্যবসায়ী এনডিটিভিকে জানান, মানুষকে নিরাপদে সরে যাওয়ার তেমন সময় না দিয়েই বন্যার পানি দ্রুত এসে পড়ে।
এলাকার সবচেয়ে বড় বাজারটিতে ওই ব্যবসায়ীর কাপড়ের দোকান ছিল।
তিনি বলেন, ‘সকালে প্রশাসনের লোকজন এসে আমাদের জানায়, তিব্বতের দিকে ভোতে কোশি নদীর ওপর একটি বাঁধ ভেঙে গেছে এবং বিপুল পরিমাণ পানি আমাদের দিকে আসছে। আমাদের উঁচু এলাকায় চলে যেতে বলা হয়।’
এই ব্যবসায়ী জানান, সময়মতো মাত্র কয়েকজন নিরাপদে সরে যেতে পেরেছিলেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বন্যার পানিতে বহু মানুষ ভেসে যান। তার ১৮ বছর বয়সী ছেলে এবং স্ত্রীও নিখোঁজ রয়েছেন।
‘সতর্কবার্তা ছাড়াই এসেছিল’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বুধবার কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই বন্যার পানি হঠাৎ এসে পড়ে। সেসময় এলাকায় বৃষ্টিও পড়ছিল না। সকালে মানুষ যখন দৈনন্দিন কাজ করছিলেন, তখন হঠাৎ কোথা থেকে যেন পানির বিশাল ঢেউ এসে এলাকাটিতে আঘাত হানে।
রসুওয়ার প্রধান শুল্ক কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা কাঠমান্ডু পোস্টকে জানান, প্রথমে তার মাটি কাঁপার অনুভূতি হয়। এরপর বাইরে বেরিয়ে দেখেন, ধোঁয়ার কুণ্ডলীর মতো কিছু একটা সঙ্গে নিয়ে উজান থেকে পানির বিশাল ঢেউ তিমুরে বাজারের দিকে ধেয়ে আসছে।
‘সেটা বন্যা ছিল। প্রায় ১০০ মিটার উঁচু ঢেউয়ের মতো পানি উঠে বাজারের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বাজারটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়,’ বলেন রাজেন্দ্র।