ইরানে খুব শিগগিরই সরকার পতন হতে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। তার মতে, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে আছে কেবল বলপ্রয়োগের ওপর ভর করে, যা তাদের পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভারত সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফ্রিডরিখ মের্জ বলেন, ‘যে কোনও সরকার যদি কেবল সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, তাহলে কার্যত তার পরিসমাপ্তি ঘটে যায়। আমার ধারণা, আমরা এখন এই শাসনব্যবস্থার শেষ কয়েকটি দিন ও সপ্তাহ প্রত্যক্ষ করছি।’
জার্মান চ্যান্সেলরের মতে, ইরানের নেতৃত্ব জনগণের বৈধ সমর্থন ধরে রাখতে পারেনি। তিনি চলমান অস্থিরতা অবসানে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের আশাবাদও ব্যক্ত করেন। ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছে বার্লিন।
তিনি আরও জানান, ‘ইরানে যেন শান্তিপূর্ণভাবে ও গণতান্ত্রিকভাবে বৈধ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব হয়, সে জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রাখছেন।’
এদিকে ইরানে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন–পীড়নের প্রেক্ষাপটে তেহরানের ওপর সামরিক চাপ আরও জোরালো করার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বলছে, সংকট সমাধানে কূটনীতি তাদের প্রথম পছন্দ হলেও প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলাসহ সামরিক পদক্ষেপের অপশনগুলো এখনও তাদের বিবেচনায় রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার বিষয়টি এখনও তাদের বিবেচনায় রয়েছে। দেশটিতে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভে ইরান সরকার ক্রমেই চাপে পড়ছে, এমন প্রেক্ষাপটে বিমান হামলাসহ বিভিন্ন সামরিক বিকল্প খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, কূটনীতি সব সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পছন্দ, তবে সামরিক হামলার অপশনটিও টেবিলে আছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বড় শক্তি হলো তিনি সব সময় সব ধরনের অপশন খোলা রাখেন। সেই অপশনগুলোর মধ্যেই বিমান হামলাও রয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানে বড় আকারের বিক্ষোভ ও দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাণঘাতী অভিযানে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব সংঘাতে নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন।
তবে বিরোধীদের দাবি, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি এবং এর মধ্যে কয়েকশ বিক্ষোভকারী রয়েছেন। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।