ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের সময় দেশটির ৪৭ জন সেনা নিহত হন। এর মধ্যে ৯ জন নরী। আল জাজিরার বরাতে ভেনেজুয়লার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কয়েক মাসের হুমকি-ধামকির পর ৩ জানুয়ারি গভীর রাতে ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করে মার্কিন বাহিনী। রাজধানী কারাকাস ছাড়াও কয়েক শহরে যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ করে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায়। তাদেরকে নিউইয়র্কের একটি আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার মার্কিন সামরিক অভিযানে বহু বেসামরিক লোকজনও নিহত হয়েছেন। তবে মার্কিন অভিযানে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ এখনও নির্ধারণ করতে পারেনি। ৭ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওয়াসদাদো ক্যাবেলো জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ১০০ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, তাদের ২৩ সদস্য নিহত হন। তাদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো সেনাবাহিনী নহতের সংখ্যা থেকে বাড়িয়ে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, ৩ জানুয়ারী মার্কিন বাহিনীর অভিযানে মোট ৮৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৭ জন ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর সদস্য।
নিহতদের মধ্যে ৩২ জন কিউবান সেনা ছিল, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ব্যক্তিগত সুরক্ষা দলে নিযুক্ত করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ভোরে ভেনেজুয়েলায় নিহত ৩২ জন সেনার দেহাবশেষ গ্রহণ করে কিউবা।
নিহতদের প্রতি শ্রুদ্ধা জানাতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাদ্রিনো বলেন, ‘আমাদের বলিভারিয়ান জাতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পুরুষ ও নারীরা সামরিক আগ্রাসনের মুখে কী করেছেন? তারা তাদের জীবন দিয়েছেন, তারা ইতিহাস এবং স্বদেশকে সম্মানিত করেছেন।’
নিহতদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য একটি স্থান নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া মার্কিন অভিযানে ১১২ জনেরও বেশি লোক আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। মার্কিন সেনারা হেলিকপ্টারে করে অবতরণ করে এবং মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে কারাকাসে তাদের বাসভবন থেকে অপহরণ করে।