ইরানের ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে আগেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ের বিক্ষোভে দেশটির আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো নিয়েও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সরকারবিরোধী বিক্ষোভে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখে ওয়াশিংটন। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি দেশটিকে উদ্দেশ্য করে নতুন এক বিস্ফোরক বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান- যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে এটি ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না। একই সঙ্গে তিনি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার বিরুদ্ধে তেহরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং বেশ কয়েকটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে। এক কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও বিবেচনা করা হচ্ছে, যা ওই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের যেকোনো সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানকে উদ্দেশ্য করে এই সামরিক মোতায়েন ট্রাম্পের জন্য বিকল্প পথ খুলে দেবে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত মার্কিন বাহিনীকে আরও ভালোভাবে রক্ষা করা যাবে। অন্যদিকে গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর প্রয়োজনে অতিরিক্ত সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হবে।
ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের ওপর কঠোর দমন-পীড়নের ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় গত সপ্তাহে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে রণতরীগুলো ইরানের উদ্দেশে যাত্রা করে। বিক্ষোভকালীন আন্দোলনকারীদের ওপর হত্যার প্রতিবাদে ট্রাম্প ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন, তার হুমকির পর ইরান প্রায় ৮৪০ জনের ফাঁসি বাতিল করেছে বলে দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ইরান যদি তার পরমাণু কর্মসূচি আবারও শুরু করে তবে পুনরায় হামলা করা হবে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরান যদি আবার পরমাণু কর্মসূচি চালু করার চেষ্টা করে, তবে তাদের অন্য এলাকায় যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সেখানেও ঠিক ততটাই সহজে আঘাত হানবে, যেভাবে আগে আঘাত করেছিল।
মার্কিন সামরিক বাহিনী অতীতেও সামরিক উত্তেজনার সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি বৃদ্ধি করেছে, যা প্রায়শই রক্ষণাত্মক ছিল। তবে গত জুনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে হামলার আগে গত বছর বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।