মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই নিজের উচ্চাভিলাষী চালচলন ও পরিকল্পনার জন্য বেশ পরিচিত। রিয়েল এস্টেট জায়ান্ট ট্রাম্প তাই প্রাপ্তির কোনো সুযোগই হাতছাড়া করতে চান না। সেই মেজাজ ধরে রেখেই এবার নিজের জন্য নতুন এবং অত্যাধুনিক আকাশ দুর্গ নিয়ে আসছেন ট্রাম্প। বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের নতুন এসব দুর্গ তাকে আরও ক্ষমতা ও নজরদারির সক্ষমতা এনে দিবে।
কয়েক দিন আগেই সুইজারল্যান্ড সফরের সময় যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে মাঝ আকাশ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী এয়ারফোর্স ওয়ান। ফলে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান পেতে আরও মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।
কাতার ২০২৫ সালের মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমান উপহার দেয় ট্রাম্পকে।
মার্কিন বিমান বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কাতার থেকে পাওয়া যে বিলাসবহুল জেট বিমানটিকে নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানে’ রূপান্তরিত করা হচ্ছে, যা এই গ্রীষ্মেই হস্তান্তর করা হবে। বিমানটির ব্যাপক সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার প্রায় এক বছর পর এই ঘোষণা এল।
বৃহস্পতিবার বিমান বাহিনীর একজন মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, প্রেসিডেন্সিয়াল এয়ারলিফট মিশনের সহায়তায় বিমান বাহিনী ‘ভিসি-২৫ ব্রিজ এয়ারক্রাফট’-এর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে চায়। এটি হলো মূলত একটি বিশেষ মধ্যবর্তী বিমান, যা বর্তমানের পুরোনো হয়ে যাওয়া এয়ারফোর্স ওয়ান এবং ভবিষ্যতে আসতে যাওয়া অত্যাধুনিক এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের অভাব পূরণের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। এয়ারফোর্স সেক্রেটারি ট্রয় মেঙ্ক গত বছর আইন প্রণেতাদের জানিয়েছিলেন যে, এই প্রকল্পের খরচ হতে পারে সম্ভবত ৪০০ মিলিয়ন ডলারের কম।
ভিজি-২৫ ব্রিজ মূলত কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমান, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের উপযোগী করে সংস্কার করছে। বর্তমানে ব্যবহৃত পুরোনো হয়ে যাওয়া বিমানগুলোর ওপর চাপ কমাতে এবং নতুন ‘নেক্সট-জেনারেশন’ বিমানের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে ব্যবহার করা হবে। তবে বিমানটি হস্তান্তরের পরপরই চলাচলের উপযোগী হবে কি না বা প্রেসিডেন্টের উড়ার জন্য ফিট ঘোষণা করার আগে আরও পরীক্ষার প্রয়োজন হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মার্কিন বিমান বাহিনী এর আগে এই প্রকল্পের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর বলেছিলেন, বিমানটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই প্রস্তুত হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র গত বছর বিমানটির রূপান্তর কাজ শুরু করে। বিমানটিকে গোয়েন্দা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। মার্কিন সংস্থাগুলো বিমানটির ভেতরের সবকিছু খুলে এর কাঠামো বের করে তার মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম দিয়ে এটি পুনরায় তৈরি করছে।