বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছেন, তার বাহিনীর আঙুল ‘ট্রিগারে’ রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান এখনো আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে।
২০২৫ সালেরর জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১২ দিন ধরে ইরান–ইসরায়েল চলেছিল এই সংঘাত। তারপর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প খোলা রেখেছেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি বড় নৌবহর উপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। তিনি ইরানের ওপর কড়া নজর রাখার কথাও বলেছেন।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের বিক্ষোভ ইরানের ধর্মীয় শাসকদের কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তবে আন্দোলনটি শেষমেশ থমকে যায়। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকারি দমন কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, সঙ্গে ছিল নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট।
আন্দোলন নিস্তেজ হয়ে আসায় তেহরানের বিরুদ্ধে এখনই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা কমে এসেছে। উভয় পক্ষই এখন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সুযোগ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) থেকে ফেরার পথে ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের জানান, যদি প্রয়োজন পড়ে, তাই ইরানের দিকে যুক্তরাষ্ট্র বিশাল নৌবহর পাঠাচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই না তেমন কিছু ঘটুক, তবে আমরা তাদের ওপর কড়া নজর রাখছি।’
কয়েক দিন ধরে ইরান–ট্রাম্প পাল্টাপাল্টি কড়া বক্তব্যে একটি অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে কোনো হামলার জবাবে যদি তার জীবনের ওপর কোনো আক্রমণ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেবে।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বৃহস্পতিবার এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করে বলেন, ‘তারা ইরানে বিক্ষোভের উসকানি দিচ্ছে। তারা কাপুরুষের মতো ১২ দিনের যুদ্ধে হেরে যাওয়ার প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে।’
ইরানে বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ‘ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও ১২ দিনের আরোপিত যুদ্ধ থেকে তাদের যে শিক্ষা হয়েছে, ভুল হিসাব এড়াতে তারা যেন তা থেকে শিক্ষা নেয়। নতুবা তাদের আরও যন্ত্রণাদায়ক ও বেদনাদায়ক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’
প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ার করে পাকপুর আরও বলেন, ‘বিপ্লবী গার্ড ও প্রিয় ইরান সর্বাধিক সতর্ক অবস্থায় রয়েছে, তাদের আঙুল ট্রিগারে, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত আছে, সর্বোচ্চ কমান্ডারের আদেশ ও পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’