দেশের বেকারত্ব নিরসনে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)। রোববার (৭ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত গ্রুপটির বার্ষিক কর্মী মূল্যায়ন অনুষ্ঠান ‘লিপ অব প্রগ্রেস’-এ বোর্ড অব ডিরেক্টরস এই প্রতিশ্রুতি জানান।
‘লিপ অব প্রগ্রেস’ এমজিআই’র একটি প্ল্যাটর্ফম, যেখানে কর্মকর্তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এবারের আয়োজনে গ্রুপটির প্রায় ৫০০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অংশ নেন।
এমজিআই চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) আতিক উজ জামান খান অনুষ্ঠানের তাৎপর্য তুলে ধরে ম্যানেজমেন্ট ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অভ্যর্থনা জানান।
৫০ বছর অগ্রযাত্রা পেরিয়ে আগামী ৫০ বছরে এমজিআইকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বোর্ড অব ডিরেক্টরস বিভিন্ন কৌশলগত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ কর্মপরিবেশ আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়নের নানা উদ্যোগ সম্পর্কেও আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে এমজিআই’র চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বিগত ৫০ বছরে এমজিআই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে লক্ষণীয় ভূমিকা পালন করেছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আমরা নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের মেধাবী জনশক্তির জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে এমজিআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনের ফলে ব্যবসা পরিচালনায় নতুন নতুন দক্ষতার প্রয়োজন হচ্ছে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম সাহসিকতার সঙ্গে নতুন কর্মপরিবেশ গ্রহণ করছে। তরুণদের বাজারভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নে আরও মনোযোগী হলে বাংলাদেশের শিল্পায়ন বৈশ্বিক পরিসরে নতুন মাত্রা যোগ করতে সক্ষম হবে।’
এমজিআই পরিচালক তাহমিনা মোস্তফা, তানজিমা মোস্তফা, তানভীর মোস্তফা, ব্যারিস্টার তাসনিম মোস্তফা, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তায়েফ বিন ইউসুফ, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব এক্সপোর্ট সামীরা রহমান এবং ওয়াশিকুর রহমান ও রাশিক চৌধুরী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ঘোষণা করা হয় এবং তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পদোন্নতিপত্র তুলে দেওয়া হয়।
এমজআিই বাংলাদশেরে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী। বর্তমানে গ্রুপটির ৫৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে ৬৫ হাজারের বেশি কর্মী কর্মরত। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এফএমসিজি ও নির্মাণ সামগ্রী থেকে শুরু করে জ্বালানি, হসপিটালিটি ও আর্থিক সেবা খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে এমজিআই। বর্তমানে প্রতিদিন বাংলাদেশের প্রতি দুটি পরিবারের একটি এমজিআই’র পণ্য ব্যবহার করে।