সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই
গাইবান্ধায় বেড়েছে কুকুর আতঙ্ক। গত চারদিনে জেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫ জন। স্বজনদের অভিযোগ সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন না থাকায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
গত ৬ মে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে কঞ্চিবাড়ী গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী নন্দ রানী ও নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুলু মিয়া মারা যান। সর্বশেষ ৮ মে মারা যান রাজমিস্ত্রি রতনেশ্বর কুমার।
নিহত রতনেশ্বরের পরিবার জানিয়েছে, রতনেশ্বর কুমার পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। কয়েকদিন আগে রতনেশ্বর কাজের উদ্দেশে বের হলে রাস্তায় কুকুরের কামড়ে গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে জানানো হয় ‘এই হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নেই’। পাঠানো হয় জেলা সদর হাসপাতালে। সেখানেও একই উত্তর, ‘ভ্যাকসিন নেই’। পরে বিভিন্ন ফার্মেসি ও বেসরকারি ক্লিনিকে ঘুরে ঘুরে আহত হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর চড়া দাম দিয়ে একটি ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ১৪ দিন পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।
রতনেশ্বরের ভাই রবিন্দ্র কুমার অভিযোগ করে বলেন, ‘কুকুর কামড়ানোর পরপরই ভাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ক্ষতস্থানগুলো ড্রেসিংয়ের পর জানানো হয় ভ্যাকসিন নেই। এরপর জেলা হাসপাতালে ছুটে যাই, সেখানেও একই কথা। বাধ্য হয়ে ওষুধের দোকান, বেসরকারি হাসপাতালে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। কিন্তু কোথাও ভ্যাকসিন মেলেনি। এরপর চড়া দাম দিয়ে এক জায়গা থেকে কিনলেও ভাইকে আর বাঁচাতে পারিনি।’
এর আগে গত ২২ এপ্রিল সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ী ও কঞ্চিবাড়ী গ্রাম এবং ছাপরহাটী ইউনিয়নের মন্ডলেরহাট গ্রামে একটি কুকুরের কামড়ে দুই শিশু ও দুই নারীসহ ১৫ জন আহত হন। আহতরা জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরেও ভ্যাকসিন পাননি। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মতিয়ার রহমানের স্ত্রী আফরোজা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আহত নারী-শিশুসহ ৯ জন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আহতদের স্বজনরা জানান, দ্রুত চিকিৎসা দিতে অনিহা এবং পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না থাকায় কুকুরের কামড়ে প্রাণহানি বাড়ছে। আক্রান্তদের এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নিয়ে ছুটতে ছুটতেই কেটে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সময়। বাইরে থেকে চড়া দামে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করলেও ততক্ষণে ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে শরীরে। এরপর রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।
কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তাজরুল ইসলাম জানান, জলাতঙ্কে তার এলাকায় দুজন মারা গেছেন। ভ্যাকসিন না থাকায় সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা যায়নি তাদের। সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন থাকলে এই মৃত্যুগুলো এড়ানো যেত।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো ভ্যাকসিন সরবরাহ ছিল না। এ মাসে ৩০টি জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ পেয়েছি।’
গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জন রফিকুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কয়েক মাস থেকে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।