নেত্রকোনার মদন সরকারি খাদ্যগুদামে ২০ টন সরকারি চাল জব্দের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। হিসাবের বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ টন ৫৬০ কেজি চালের সন্ধান পেয়েছে খাদ্য বিভাগ। অনিয়ম ও অসংগতি ধরা পড়ায় গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— যেখানে ১০ কেজি চালের জন্য দরিদ্র মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেখানে সরকারি গুদামে কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ চাল হিসাবের বাইরে থাকে?
খাদ্য অধিদপ্তর, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মদন উপজেলা থেকে ৬৬৭ বস্তায় প্রায় ২০ টন সরকারি চাল ট্রাকে করে বারহাট্টা উপজেলার একটি রাইস মিলে নেওয়া হচ্ছিল। এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোনা-মদন সড়কের হাঁসকুঁড়ি মৈধাম এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ।
পরে সাম্য ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে সরকারি সিলযুক্ত বস্তাভর্তি ট্রাকটি জব্দ করা হয়। এ সময় ট্রাকের চালক ও তার সহকারীকে আটক করে পুলিশ।
এ ঘটনায় গত শুক্রবার সকালে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়া বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আটক ট্রাকচালক ও তার সহকারী ছাড়াও মদন উপজেলার মনোহরপুর এলাকার বাসিন্দা এনামুল হকের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়।
ঘটনার পর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সেলিমুল আজমের নেতৃত্বে পৃথক তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তকালে গুদামে মজুত ধান ও চালের হিসাব মিলিয়ে দেখা হলে অতিরিক্ত ৪৩ টন ৫৬০ কেজি চাল পাওয়া যায়, যা সরকারি হিসাবের সঙ্গে মিলেনি। একই সঙ্গে গুদাম ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অসংগতিও ধরা পড়ে। পরে গত শনিবার বিকেলে খাদ্যগুদামটি সিলগালা করা হয়।
খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সেলিমুল আজম সাংবাদিকদের বলেন, ‘অতিরিক্ত পাওয়া চাল সরকারি মজুতের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এছাড়া আগে জব্দ হওয়া ২০ টন চালের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে জব্দ চাল পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।’
মদন সরকারি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম অপরগতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি অসহায়। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের চাপের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ‘জব্দ চাল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে তদন্ত চলছে আমরা উচ্চ আদালতে তদন্ত শেষে তা প্রেস করব।’
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোয়েতাছেমুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’