দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর সেই ঘোষণার সবচেয়ে বড় চমক, দলে ফিরেছেন ৩৪ বছর বয়সী তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। সোমবার রাতে কোচ কার্লো আনচেলত্তির ঘোষিত এই স্কোয়াড ঘিরে ইতোমধ্যেই নতুন করে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে সেলেসাও সমর্থকদের মাঝে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে হাঁটুর গুরুতর চোটে মাঠের বাইরে ছিলেন নেইমার। জাতীয় দলের জার্সিতে দীর্ঘ বিরতির কারণে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। কারণ কোচ আনচেলত্তি শুরু থেকেই কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন যে, ‘পুরোপুরি ফিট না হলে বিশ্বকাপ দলে জায়গা হবে না।’ শেষ পর্যন্ত সেই কঠিন পরীক্ষায় পাস করেই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রায় নিজের নাম লেখালেন দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফরোয়ার্ড।
জাতীয় দলের হয়ে ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করা নেইমারের প্রত্যাবর্তন শুধু একজন খেলোয়াড়ের ফেরা নয়, বরং ব্রাজিলের শিরোপা স্বপ্নে নতুন প্রাণ সঞ্চার। কারণ ২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে আর ট্রফির দেখা পায়নি সাম্বার দেশ। এরপরের পাঁচ আসরে বারবার হোঁচট খেয়েছে তারা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল ব্রাজিলকে।
তাই এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে আনচেলত্তির দল। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মরক্কো, পানামা ও স্কটল্যান্ড। মূল আসরের আগে পানামার বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা।
ঘোষিত স্কোয়াডে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেল রেখেছেন আনচেলত্তি। গোলবার সামলাবেন আলিসন ও এদারসনের মতো নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক। রক্ষণভাগে আস্থা রাখা হয়েছে মার্কিনিয়োস, দানিলো ও গাব্রিয়েলদের ওপর। মাঝমাঠে থাকছেন ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গুইমারায়েস ও লুকাস পাকেতা। আর আক্রমণভাগে নেইমারের সঙ্গে গতি ও আগ্রাসনের দায়িত্ব ভাগ করে নেবেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি এবং তরুণ সেনসেশন এন্দ্রিক।