জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ইয়াবা সেবনের সময় আব্দুর রহিম নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে তিন পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ক্ষেতলাল পৌরসভা ভবনের পেছনের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আব্দুর রহিম ক্ষেতলাল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে পৌরসভা ভবনের পেছনে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় আব্দুর রহিমকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে তিন পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক ও চেক জালিয়াতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
ক্ষেতলাল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আসমাউল হোসনা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি দেখে তিনি ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন। ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে ওই শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিদ্যালয় ছুটি ছিল। এর আগের দিনও আব্দুর রহিম নিয়মতান্ত্রিক ছুটিতে ছিলেন।
ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, এর আগেও তার বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে শিক্ষা অফিস তদন্ত করেছিল। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন পাঠানোর পর তিনি কিছুদিন অফিস থেকে অব্যাহতি নেন। পরে তদন্ত-সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে পুনরায় চাকরিতে যোগ দেন।
তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে বা এ ধরনের ঘটনা ঘটলে নিয়ম অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। তাই বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আজিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে জানতে পেরেছেন। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা শিক্ষা কার্যালয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু মৌখিক তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন। থানা বা আদালত থেকে লিখিত কাগজপত্র কিংবা প্রতিবেদন প্রয়োজন। কোনো শিক্ষক গ্রেপ্তার হয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে গেলে সরকারি বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে। আদালতের আদেশ বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আব্দুর রহিমকে মাদক সেবনরত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে ডোপ টেস্ট করিয়ে মাদক মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।