সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও ফের অস্থির সবজির বাজার। গত সপ্তাহের তুলনায় বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকার মতো। কোনোটির দাম হয়েছে দ্বিগুণ। তবে আরও দাম কমেছে পেঁয়াজ ও ডিমের।
ব্যবসায়ীরা বলছে, গত মাসে বৃষ্টিপাতের ফলে উৎপাদন এলাকায় ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই দাম কিছুটা বাড়তি। অন্যদিকে, ডিমের পাইকারি বাজার কমতির দিকে থাকায় খুচরায় দাম কমছে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। সরবরাহ বাড়ার কারণে গত সপ্তাহে সবজির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকার মতো কমেছিল। তবে ফের উত্তাপ দেখা গেছে বাজারে।
বিশেষ করে শীতের সবজি শিম, মুলা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে শিমের কেজি ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। গতকাল দাম দ্বিগুণ বেড়ে শিম বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। ছোট আকারের একটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি করেছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। গত সপ্তাহে অন্তত ১০ টাকা কমে কেনা গেছে এ দুটি সবজি। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। মূলত এসব সবজির দাম বাড়ার কারণে অন্যগুলোর দাম বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
গত সপ্তাহে বরবটি, উচ্ছে ও কাঁকরোলের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, যা গতকাল বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। ঢ্যাঁড়শ ও পটোলের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। গতকাল বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। এভাবে বেড়েছে অন্য সবজির দামও। কাঁচামরিচের কেজিতে বেড়েছে ৬০ থেকে ১০০ টাকা। গতকাল প্রতি কেজি কাঁচামরিচ কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। বাজারে নতুন আলুর দেখা মিলেছে। প্রতি কেজি আলু ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে পুরোনো আলুর কেজি কেনা যাচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টাকায়।
শীতকালীন সবজির দাম বাড়ার কারণে অন্য সবজির দর বেড়েছে বলে জানান কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী। নাগরিক প্রতিদিনকে ব্যবসায়ীরা বলেন, উৎপাদন এলাকাগুলোতে গত মাসে অনেক বৃষ্টি হয়েছে। তখন ক্ষেতে পানি জমে কিছু গাছ মরে গেছে। এ কারণে উৎপাদন এলাকাতেই দাম বাড়ছে। যার কারণে ঢাকায় দাম বাড়ছে।
তবে সবজির বাজার চড়া হলেও উল্টো চিত্র রয়েছে ডিমের বাজারে। গত সপ্তাহে ফার্মের প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছিল ১৩০ টাকা দরে। ডজনে ১০ টাকা কমে গতকাল বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়। মুরগির বাজার গত সপ্তাহের মতো স্থির রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৬০ থেকে ১৭০ এবং সোনালি জাতের মুরগির কেজি ২৬০ থেকে ২৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছ-মাংসের বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এদিকে সপ্তাহ দুয়েক আগে অস্থির হয়ে ওঠা পেঁয়াজের বাজারে কিছুটা শিথিলতা দেখা গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে আরও পাঁচ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা দরে। বাজারে পাতাযুক্ত পেঁয়াজ এসেছে। প্রতি কেজি কেনা যাচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।
আদা-রসুনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে দেশি রসুনের কেজি ১০০ থেকে ১৪০ এবং আমদানি করা রসুনের কেজি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে আদা কিনতে কেজিতে খরচ হবে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার আমদানির অনুমোদন দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে পেঁয়াজের বাজার কমতির দিকে। নতুবা দাম আরও বাড়ত। এ ছাড়া আগের মতোই স্বাভাবিক দেখা গেছে চাল, ডাল, তেল ও চিনির বাজার।