লিভার ও ফুসফুসের জটিলতায় ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। তার এই অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার এবং বিনোদন অঙ্গনে।
শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে কারিনা কায়সারের বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে মেয়ের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন ও দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।
ফেসবুক পোস্টে কায়সার হামিদ বলেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে। আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক। আমিন।’
জানা যায়, কিছুদিন ধরেই কারিনা অসুস্থ বোধ করছিলেন। শুরুতে সাধারণ শারীরিক সমস্যা মনে হলেও পরে পরীক্ষার পর তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং তিনি ‘হেপাটাইটিস এ’ ও ই-তে আক্রান্ত হন। কারিনার আগে থেকেই ‘ফ্যাটি লিভার’-এর সমস্যা ছিল। সংক্রমণের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে ও গত শুক্রবার তার লিভার ফেইলিউর হয়।
সংকটাপন্ন অবস্থায় প্রথমে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার নিবিড় চিকিৎসা চলছিল।
চিকিৎসার শেষ মুহূর্তের বিষয়ে কায়সার হামিদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। পরে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন কিন্তু ওকে আর বাঁচানো গেল না।’
চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের সংক্রমণ রোধে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন ও পরে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের (যকৃৎ প্রতিস্থাপন) প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।