জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শনিবার (১৬ মে) এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কারিনা কায়সারের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে তার দৃঢ় অবস্থান দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘তিনি কেবল একজন সংস্কৃতিকর্মীই ছিলেন না বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান গ্রহণকারী এক সাহসী কণ্ঠস্বর ছিলেন। কঠিন ও দমনমূলক সময়েও তিনি গণমানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধকে আন্দোলনের শক্তিশালী অংশে পরিণত করতে অবদান রেখেছেন।’
আসিফ আরও বলেন, ‘কারিনা কায়সারের সাহস, প্রতিশ্রুতি ও সংগ্রামী চেতনা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তার অকাল মৃত্যু ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’
শোকবার্তায় আসিফ মাহমুদ কারিনা কায়সারের রূহের মাগফিরাত কামনা করে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার দোয়া করেন। পাশাপাশি তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এর আগে, শুক্রবার রাতে কারিনা কায়সারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার বাবা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সময় হঠাৎ কারিনার রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। পরে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরেই গুরুতর লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তবে অবস্থার আরও অবনতি হলে গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রথমে তার ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব কনটেন্ট ও অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন কারিনা। তার অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভক্ত-অনুরাগীসহ বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই।