আঙুলের চোটে সিলেট টেস্টে মাহমুদুল হাসান জয়ের খেলা নিয়েই ছিল শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত একাদশে জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মাঠে নেমে টিকতেই পারলেন না। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে ফিরে গেছেন এই ওপেনার।
টেস্ট ক্রিকেটে জয়ের জন্য শূন্য রানে আউট হওয়া নতুন কিছু নয়। বরং ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এটি যেন তার নিত্যসঙ্গী। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষেই টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তার। সেই ম্যাচের প্রথম ইনিংসেও ফিরেছিলেন শূন্য রানে। পরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গেবেখা টেস্টে দুই ইনিংসেই শূন্য করে ‘পেয়ার’ এর তেতো অভিজ্ঞতাও হয়েছে তার।
২২ টেস্টে ৪০ ইনিংস খেলেই এখন পর্যন্ত ৮ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন জয়। বাংলাদেশের ওপেনারদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি শূন্য আছে শুধু তামিম ইকবালের। তবে তামিম ৭০ টেস্টের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১১ বার শূন্য করেছেন। সেই তুলনায় ক্যারিয়ারের শুরুতেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছেন জয়।
জয়ের আউট হওয়ার ধরনটাও প্রায় একই রকম। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিতে গিয়ে ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে স্লিপে ক্যাচ। এবারও হয়েছে সেটিই। টেস্ট ওপেনার হিসেবে স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে দেওয়ার দক্ষতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জয় বরাবরই এই জায়গায় দুর্বল। অনেক সময় রক্ষণাত্মক শটও খেলেন শক্ত হাতে, যেটি তার সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
তবে তার ক্যারিয়ারে উজ্জ্বল মুহূর্তও কম নেই। নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে ৭৮ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেছিলেন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ব্যাট করে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবানে করেছিলেন ১৩৭ রান। এই সিলেটেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন ৮৬ রানের ইনিংস। সবশেষ আয়ারল্যান্ড সিরিজে করেছিলেন ক্যারিয়ারসেরা ১৭১ রান।
কিন্তু বড় ইনিংসগুলোর মাঝেও ছোট রান আর দ্রুত বিদায়ের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ওপেনার হিসেবে তার টেকনিক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে একই ধরনের আউট সেই প্রশ্ন আরও জোরালো করছে।
মজার বিষয় হলো, জয় মূলত সহজাত ওপেনার ছিলেন না। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তিনি বেশি খেলেছেন তিন বা চার নম্বরে। টেস্ট অভিষেকের আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও ওপেন করেছিলেন মাত্র একবার। তবু ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি যে সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সময়ের সঙ্গে সেই সম্ভাবনাকে ঘিরেই এখন তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।