প্রাচীন রোমান শহর পম্পেই ছিল একটি সমৃদ্ধ জনপদ, যা খ্রিষ্টীয় ৭৯ অব্দে মাউন্ট ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্নুৎপাতে মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আগ্নেয়গিরির ছাই এবং লাভা পুরো শহরটিকে এমনভাবে ঢেকে ফেলেছিল যে, প্রায় দুই হাজার বছর ধরে এটি ইতিহাসের পাতায় একপ্রকার নিখোঁজ ছিল।
আধুনিক যুগে প্রত্নতাত্ত্বিকরা যখন এই শহরটিকে খনন করে বের করেন, তখন দেখা যায় আগ্নেয় ছাইয়ের আবরণে সেখানকার বাড়িঘর, রাস্তাঘাট এবং এমনকি মানুষের দেহগুলোও অনেকটা অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষিত রয়েছে।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া খুলি ও হাড়ের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মাধ্যমে পম্পেইয়ের সেই প্রাচীন বাসিন্দাদের চেহারা এবং অভিব্যক্তি ডিজিটালভাবে পুনর্গঠন করা সম্ভব হচ্ছে। এই প্রযুক্তিগত সাফল্য পম্পেইকে কেবল একটি মৃত শহর হিসেবে নয়, বরং দুই সহস্রাব্দ আগের মানুষের জীবন ও যন্ত্রণার এক জীবন্ত ইতিহাস হিসেবে আমাদের সামনে তুলে ধরছে।
পম্পেইয়ের এক বাসিন্দার চেহারা দীর্ঘ দুই হাজার বছর পর আবারও পৃথিবীর আলো দেখল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এই অসাধ্য সাধন করেছেন, যা প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
পম্পেইয়ের ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া খুলি এবং হাড়ের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ডিজিটাল পুনর্গঠনটি আমাদের চোখের সামনে হাজির করেছে এমন এক মানুষকে, যে কি না খ্রিষ্টীয় ৭৯ অব্দের সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় নিজের অজান্তেই ইতিহাসের পাতায় বন্দি হয়ে গিয়েছিল।
প্রযুক্তি এবং ইতিহাসের এই মেলবন্ধন পম্পেইয়ের সেই দুর্ভাগা মানুষদের কেবল কঙ্কাল হিসেবে নয়, বরং রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে চেনার সুযোগ করে দিচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ব্যক্তির খুলির ডিজিটাল স্ক্যান থেকে পাওয়া তথ্যের মাধ্যমে তার হাড়ের গঠন, চোখের গভীরতা এবং চোয়ালের আদল নিঁখুতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে দুই সহস্রাব্দ আগের একজন সাধারণ মানুষের অভিব্যক্তি কেমন ছিল, তা এখন কেবল অনুমানের বিষয় নয়, বরং দৃশ্যমান বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
এটি কেবল একটি ছবি নয়, বরং একটি যন্ত্রণার ইতিহাসের ডিজিটাল দলিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই জাদুস্পর্শে পম্পেইয়ের অন্যান্য শিকারদেরও একে একে জনসমক্ষে আনা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে গবেষকরা পম্পেইয়ের বাসিন্দাদের খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক গঠন এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে আরও গভীর তথ্য পাওয়ার আশা করছেন। এই আবিষ্কার পম্পেইকে কেবল ধ্বংসস্তূপের শহর হিসেবে নয়, বরং সেখানে বসবাসকারী মানুষদের গল্প বলার এক জীবন্ত পাঠশালা হিসেবে গড়ে তুলছে। সূত্র: এপি নিউজ